গভীর রাতে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, SFI ছিল না দাবি সৃজনের, কী হয়েছিল?

Published:

Jadavpur University

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের খবরের শিরোনামে যাদবপুর, ABVP ও SFI-এর মধ্যে ছাত্র সংঘর্ষের (ABVP SFI Clash) জেরে গতকাল, বুধবার রাতে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করেই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। অরবিন্দ ভবনের সামনে SFI-এর পোস্টারে আগুন ধরানো হয়। আহত দু পক্ষের বেশ কয়েকজন ছাত্র। রাতেই ঘটনাস্থলে যান বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়।

তুমুল সংঘর্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, বুধবার, রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাধারণ সভাকে ঘিরে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে বচসা থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। সেখানে ABVP ও FETSU নিয়ন্ত্রণাধীন ডিএসএফের মধ্যে বচসা হয়। পরে সেই বচসায় জড়িয়ে পড়ে SFI। বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের দাবি, রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ একদল ABVP সমর্থক যাদবপুর থানা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের দিকে এগিয়ে যান। বন্ধ গেট ধাক্কা দিয়ে খুলে ভিতরে ঢুকে পড়েন। এরপর SFI-সহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের পোস্টার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

কী বলছেন বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়?

এবিভিপির অভিযোগ, সাধারণ সভার নামে পরিকল্পিতভাবে এসএফআই এবং ডিএসও-ডিএসএফ হামলা চালিয়েছে তাদের উপর। সংগঠনের নেতা নিখিল রায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত হন অনেকেই। খবর পেয়ে আহত ছাত্রদের দেখতে কেপিসি মেডিক্যালে যান শর্বরী। এরপর রাতে আরও একদল বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) চত্বরে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ। আবারও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হলে বামপন্থী ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দ ভবনের ভিতরে নিজেদের তালাবন্দি করে রাখেন। ঘটনায় শর্বরী মুখোপাধ্যায় জানান, “এক ঘণ্টার মধ্যে এদের থানায় সারেন্ডার না করালে, সৃজন যেখানে লুকিয়ে আছেন, সেখান থেকে টেনে বের করব।”

পাল্টা চ্যালেঞ্জ সৃজন ভট্টাচার্যের

বিজেপি বিধায়কের হুঁশিয়ারিতে চুপ থাকেনি SFI-এর সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। তিনি পাল্টা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রভোট দ্রুত চালু করার দাবি তোলেন। তাঁর দাবি, “ছাত্রদের বচসার মধ্যে প্রথমে SFI কোথাও ছিল না। পরে শুনছি বিজেপি ভাঙচুর চালাচ্ছে। এত ভয় কীসের? যদি ABVP ঠিক হয় তাহলে ছাত্রভোটে দাঁড়িয়ে নির্বাচিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসুক। লড়াই করুক বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা বাকি ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে। যা রায় হবে, তা মাথা পেতে মেনে নেবে সকলে।” আর এদিনের ঘটনা সম্পূর্ণ যে উদ্দেশ্য প্রণোদিত সেটা তিনি মনে করছেন।

আরও পড়ুন: ট্রেনে নয়, প্রিমিয়াম সরকারি বাসে যান কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি, জানুন রুট ও সময়সূচি

যাদবপুরে দুই দলের এই সংঘর্ষের জেরে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার প্রতিবাদে ABVP নেতৃত্ব ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে আজ, ২০ আগস্ট দুপুর ১২টায় গোলপার্কের এইট বি বাস স্ট্যান্ড থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অভিযানের ডাক দিয়েছে ABVP সমর্থকেরা। পালন করা হবে ধিক্কার দিবস। ফলে আজও যে যাদবপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়বে তা বেশ বোঝা যাচ্ছে।