প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রবিবার হালিশহরে তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল কাদা, জুতো। এমনকি ‘চোর চোর’ স্লোগানও উঠেছিল। আর এবার সেই ঘটনায় বেজায় বিরক্ত বাম নেতা তথা আইনজীবি বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya)। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করার জন্য আদি ও নব রাষ্ট্রবাদীদের লজ্জিত হওয়া উচিৎ। এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ।”
ঠিক কী ঘটেছিল?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিরজু কেওটকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, প্রথমে তিনি সুস্থই ছিলেন, তাঁর স্ত্রীও দেখা করেছিলেন। কিন্তু হালিশহর থানার পুলিশের দাবি, শুক্রবার ভোররাতে ওই যুবককে অসুস্থ অবস্থায় লকআপে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এবং হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আর তাই এই ঘটনার জন্য গতকাল, রবিবার হালিশহরের মৃতের বাড়ি যাচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মাঝ-রাস্তায় প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। বিক্ষোভকারীরা মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছুঁড়তে থাকে। ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগানও।
তীব্র নিন্দা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর এইরূপ হামলা হওয়ার ঘটনা নিয়ে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন যে, “দুর্ভাগ্যজনক হলেও তিনি ছিলেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষত মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। প্রচার বেলুন উড়িয়ে দেবী বানিয়েছেন। অনেক অপরাধ করেছেন। কিন্তু এভাবে তাঁকে শারীরিক ভাবে অপদস্থ করা সুস্থ সংস্কৃতির অঙ্গ নয়। এর জন্য আদি ও নব রাষ্ট্রবাদীদের লজ্জিত হওয়া উচিৎ। এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ।” এদিকে এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসা মাত্রই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: ছোট হোক বা মাঝারি, বাড়ির পাশের নার্সিংহোমেও চলবে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড!
এর আগে নদীয়ার কালীগঞ্জে বৈঠকের মাঝে আক্রান্ত হয়েছিলেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন যে, তাঁকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে কাদা-গোবর-ডিম। তখনও সেই ঘটনাটির তীব্র নিন্দা করেছিলেন বাম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এমনকি তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর হয়ে আদালতে সওয়াল করার কোথাও বলেছিলেন। যদিও সেই নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই বর্ষীয়ান আইনজীবী। এমতাবস্থায় বিকাশের ফের মমতার পাশে থাকার বার্তা প্রকাশ্যে আসতেই সিপিএম অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।










