“রাজনৈতিক পালাবদল না হলে করতে পারতেন?” অভিষেকের মামলায় পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের বিচারপতির

Published:

Abhishek Banerjee

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর একেবারে শিরেসংক্রান্তি অবস্থা যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক থানায় দায়ের করা হয়েছে এফআইআর। এমনকি তদন্তের অগ্রগতিতে বাধা পড়বে এই দাবিতে অভিষেককে বিদেশ যাত্রার অনুমতি পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছিল না। যদিও সম্প্রতি তিনি বিদেশ যাত্রার অনুমতি পেয়েছেন। এদিকে আজ কলকাতা হাইকোর্টের তরফ থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। তবে সেখানেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বড় দাবি রাখলেন রাজ্যের সলিসিটর জেনারেলের কাছে।

“রাজনৈতিক পরিবর্তন না হলে এই কাজ করতে পারতেন?” প্রশ্ন বিচারপতির

আসলে অভিষেকের বিরুদ্ধে মোট ১৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১৩টি মামলায় আগে থেকে রক্ষাকবচ পেয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। বাকি তিনটি মামলার জন্য রক্ষাকবচ চেয়ে আজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। তবে সেই মামলাগুলিতে সাময়িক স্বস্তি হিসেবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত রক্ষাকবচ বাড়ানো হয়েছে তৃণমূল সাংসদের। আজ কালিতলা থানা, বিষ্ণুপুর থানা এবং ভবানীপুর থানায় দায়ের করা মামলাগুলি শুনানির জন্য উঠেছিল রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতে। এমনকি আজ রাজ্যের হয়ে অভিষেকের রক্ষাকবচের বিরোধিতা করেন অ্যাডিশনাল সলিসেটর এসভি রাজু।

এদিন শুনানির শুরুতেই সলিসেটর দাবি করেন, “আবেদনের বিরোধিতা করা করা হচ্ছে। কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ নয়, বরং তাঁর আগাম জামিন চাওয়া উচিত ছিল। এই মামলার কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। তবে তাঁর এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, “যদি এটি অর্থহীন হয়ে থাকে তাহলে ডিজে বাজানোর মামলায় যে অন্তবর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল সেটিও অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে।” এমনকি পাল্টা রাজু জানান, “অভিষেকের বিরুদ্ধে অবৈধ খনন থেকে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।”

তবে সবথেকে বড় ব্যাপার, আজ অভিষেককে বাকি তিনটি মামলায় রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে এই হিসাবে যে তাঁর বিরুদ্ধে করা প্রত্যেকটি মামলা ভোটের ফল প্রকাশের পর। অর্থাৎ ৪ মে-র পর। পাশাপাশি বিচারপতি আরও প্রশ্ন করেন, “এই মামলাগুলি কি বিজেপির প্রার্থী ববির করা, যিনি অভিষেকের কাছে ভোটে হেরেছিলেন? তদন্তের কীরকম অগ্রগতি হয়েছে তা দেখতে চায় আদালত।” যদিও পাল্টা রাজু জানান, “এফআইআর গ্রহণ করতে দেরি হয়েছে মানেই যে রক্ষাকবচ পাবে, এমনটা আইন নয়। এই মামলা গ্রহণযোগ্য নয়।”

আরও পড়ুন: গ্রেফতার করতে পারবে না কেউ, মেসি কাণ্ডে অরূপ বিশ্বাসকে বড় স্বস্তি দিল হাইকোর্ট

তবে সবথেকে বড় ব্যাপার, রাজুর সেই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, “রাজনৈতিক পটভূমি যদি না বদলাত তাহলে আপনারা করতে পারতেন? আমাদের বাস্তব অস্বীকার করা উচিত নয়। ৪ মে-র কাস্টোডিয়াল জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারতেন। এফআইআর যদি দেরি হয় তাহলে আদালত পর্যবেক্ষণ করবে। তাঁকে সাহায্য করা হলে সমস্যা কোথায়?”