পুজোর আগে তিন গুন বেতন বৃদ্ধি এদের

Published:

Braithwaite & Co Ltd contract workers

অনন্যা সরকার, হুগলি: অনেকদিন ধরেই চলছিল আন্দোলন। দাবি ছিল একটাই – ‘সম কাজের জন্য সম বেতন’। অবশেষে পূরণ হল শ্রমিকদের (Workers) দীর্ঘদিনের দাবি। বৃহস্পতিবার হুগলির ব্রেইথওয়েট কারখানার (Braithwaite & Co. Ltd.) শ্রমিকরা আবির মাখিয়ে ও মিষ্টিমুখ করিয়ে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিলেন একে অপরের সাথে। শ্রমিকরা জানিয়েছেন যে, ব্রেইথওয়েট কারখানায় মজুরি কাঠামোতে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ছিল। ওই ফ্যাক্টরিটিতে ৩০ জন স্থায়ী কর্মচারী এবং ৬১ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী কাজ করেন। কিন্তু স্থায়ী কর্মীদের আয়ের অর্ধেকও পাচ্ছিলেন না কন্ট্রাক্ট ওয়ার্কাররা। সম পরিমাণ কাজ করা সত্ত্বেও বেতন কাঠামোতে বিশাল ব্যবধান থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ ছিল চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মনে। শেষমেষ মিটল সেই অসন্তোষ। 

অবশেষে মানা হল শ্রমিকদের দাবি

গত ৬ জুন কেন্দ্রীয় শ্রম দফতর কলকাতার রবীন্দ্র সদনে ব্রেইথওয়েট কর্তৃপক্ষকে ডেকে পাঠায়। ওই দিন বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের সমান কাজের জন্য স্থায়ী শ্রমিকদের সমান বেতন, সেইসাথে নিয়োগপত্র ও পে স্লিপ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয় ম্যানেজমেন্টকে।

এতদিন পর্যন্ত শ্রমিকদের রাজ্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারে বেতন দেওয়া হচ্ছিল। আগে যেখানে পেতেন ৩৫০ টাকা করে, সেখানে অদক্ষ শ্রমিকদের এবার থেকে দৈনিক ৭৮৪ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের দৈনিক ১,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। মাসে প্রায় ২৬ দিন কাজ মিলবে, যেখানে প্রায়শই ওভারটাইমের সুযোগ রয়েছে। ফলে, শ্রমিকরা আগে যেখানে মাসে ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা উপার্জন করতেন, এখন তাদের আয় প্রায় তিনগুণ বেড়ে গেল। এই বেতন বৃদ্ধিতে তাই সবাই আনন্দিত, বিশেষ করে পুজোর আগে শ্রমিক পরিবারগুলির জন্য এটি একটি দারুণ খবর।

আরও পড়ুন: ৬ মাস বন্ধ মিড ডে মিলের টাকা, মুদিখানায় অনেক ধার, কাটোয়ার একাধিক স্কুল থেকে অভিযোগ

কারখানার এক স্থায়ী কর্মচারী জানান, এই সিদ্ধান্তে তাঁরা ভীষণ খুশি। তবে সরাসরি চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের পাশাপাশি যদি আউটসোর্স করা কর্মীদের মজুরিও বাড়ানো হত, তাহলে আরও ভালো হতো বলে মত তাঁর। বর্তমানে ব্রেইথওয়েট কারখানায় কন্ট্রাক্ট এজেন্সি মারফত প্রায় ২৫০ জন আউটসোর্সড কর্মী কাজ করেন। জানিয়ে রাখি, হুগলির ব্রেইথওয়েটে কন্টেইনার, ক্রেন, মালবাহী ওয়াগন, কাস্টিং, বগি, কাপলার, সেতু সহ রেলের বিভিন্ন পার্টস তৈরি করা হয়। এই কারখানাটি ২০০৬ সাল থেকে ভারতীয় রেলের উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে।

google button