অনন্যা সরকার, পূর্ব বর্ধমান: ৬ মাস ধরে বকেয়া রয়েছে টাকা। বাধ্য হয়ে পড়ুয়াদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য এগিয়ে এসেছেন শিক্ষকরা। এরকমই অবস্থা কাটোয়া-১ ব্লকের একাধিক সরকারি পোষিত স্কুলে। বিগত সরকারের আমলেই মিড ডে মিলের (Mid Day Meal) টাকা আসা বন্ধ হয়েছিল। তারপর কেটে গেছে ছ ছ’টা মাস। এর মধ্যেই রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে রাজ্যে। তবু এই স্কুলগুলির অবস্থা একই রয়েছে। শোনা যাচ্ছে মিড ডে মিলের পোর্টালের সমস্যার কারণে পাওয়া যাচ্ছে না বরাদ্দ ফান্ড।
দীর্ঘদিন ধরে মিড ডে মিলের টাকা আসা বন্ধ
ছয় মাস ধরে মিড ডে মিলের ফান্ড আসছে না। ধার করে কোনমতে চালু রয়েছে কার্যক্রম, এমনকি কিছু জায়গায় শিক্ষকরা এখন নিজেদের পকেট থেকে খরচ করছেন। কাটোয়া-১ ব্লকের বেশ কয়েকটি স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে মিড ডে মিলের বরাদ্দ টাকা আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পোর্টালের সমস্যার কারণে প্রায় ছয় মাস ধরে টাকা না আসায় অনেক স্কুলকে তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে।
শোনা যাচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় মুদির দোকানে বাকি পড়তে পড়তে ধারের পরিমাণ ১৮,০০০ থেকে ৩২,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ছাত্রছাত্রীদের মিড ডে মিল পরিষেবা চালু রাখতে সবজি, ডিম থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাস পর্যন্ত বিভিন্ন সামগ্রী প্রায়ই ধারে কিনতে হচ্ছে। শিক্ষকরা অভিযোগ করছেন যে, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে তাদেরই টাকা খরচ করতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই অবস্থা চলতে থাকায়, শিক্ষকরা মিড ডে মিল পরিষেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে কাটোয়ার মহকুমা শাসক (SDO) রীনা ঘোষ আশ্বাস দিয়েছেন যে, প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আরও পড়ুন: আসল দামেই খাবার! Zomato, Swiggy-কে টেক্কা দিতে কলকাতায় আসছে র্যাপিডোর ‘Ownly’
প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের কাছে পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্যই কেন্দ্র সরকারের এই প্রকল্প, যা পিএম পোষণ (PM POSHAN) নামে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গে চালু থাকা মিড ডে মিল প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে এই কর্মসূচিকে পিএম পোষণের অধীনে এনেছে রাজ্য সরকার। তবে এখনও রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে পোর্টাল-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বরাদ্দ টাকা পৌঁছাচ্ছে না। তাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান এবং স্কুলগুলোর বকেয়া পরিশোধ করার দাবি ক্রমশই জোরালো হচ্ছে।










