সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের (Abhishek Banerjee) দলীয় কার্যালয়ের বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনীতি এখন তোলপাড়। এই ইস্যুতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কিশোর দত্ত। বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরীর বেঞ্চে আজ এই মামলার শুনানি ছিল। তবে ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের দিনই চরম ঝটকা খেল কালীঘাট তৃণমূল! মিলল না অন্তর্বর্তী নির্দেশ।
বিলবোর্ড ভাঙার মামলায় হাইকোর্টে ঝটকা তৃণমূলের
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে চারটা নাগাদ পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক পুলিশবাহিনী হাজির হয় ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় কার্যালয়ে। তাদের দাবি, ওই কার্যালয়ের উপরের বিলবোর্ড বেআইনিভাবে লাগানো। প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পুরসভার আধিকারিকদের তীব্র বাকবিতণ্ডা হলেও শেষমেশ জোরজবরদস্তি তৃণমূল কর্মীদের আটকে রেখে ওই সাইনবোর্ড খোলা হয় বলেই অভিযোগ। এ নিয়ে গতকাল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অভিষেক। কিন্তু প্রধান বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী আজ রাজা বসুচৌধুরীর বেঞ্চে মামলা করা হলে সেখানে ধাক্কা খেতে হল তৃণমূলকে।
এদিন শুনানি চলাকালীন বিচারপতি স্পষ্ট জানান, যেহেতু সাইনবোর্ড ইতিমধ্যেই ভেঙে ফেলা হয়েছে, তাই এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হাইকোর্টের পক্ষে সম্ভব নয়। এমনকি এই মামলার কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই। তৃণমূলের তরফ থেকে জানানো হয়, বেআইনিভাবে যেন কোনও সম্পত্তি ভাঙা না হয় এবং সাইনবোর্ডটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করা সম্ভব নয়। এমনকি বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালনকারী কর্মীদের কীভাবে মামলায় যুক্ত করা যায়? মামলাটি সংশোধন করেই পেশ করতে হবে।
আরও পড়ুন: মিলবে ৫০,০০০ টাকা! বদলি ও অবসরের নিয়মে বদল আনল রাজ্য সরকার
কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী জানান, পুরসভা দ্রুততার সঙ্গেই কাজ করেছে। দুপুর ১২:২৫ মিনিট নাগাদ ভাঙার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যে তা কার্যকর করা হয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা অন্যত্র না ঘটে, তার জন্য রক্ষাকবচের আবেদন করা হয়। তবে পাল্টা বিচারপতি জানান, একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা আইন না মেনে কাজ করবে, এমন আশঙ্কায় আদালত কীভাবে নির্দেশ দিতে পারে? ভবিষ্যতে যদি এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন উপযুক্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত বিষয়টি বিবেচনা করবে। কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে সার্বিক নির্দেশ জারি করা যায় না।










