‘ফ্রিতে টাকা নেব না’, অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ পেয়ে স্কুল পরিষ্কার করলেন পুরুলিয়ার দম্পতি

Published:

Annapurna Yojana

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) নিয়ে রাজ্যে এখনও চর্চা তুঙ্গে। কারণ রাজ্যের বহু মহিলা এখনও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি। আর সেই নিয়ে চারিদিকে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। কিন্তু এবার সেই বিক্ষোভের মাঝে অন্য চিত্র দেখা গেল পুরুলিয়ায় (Purulia)। অন্নপূর্ণা যোজনা ৩০০০ টাকা পাওয়ার পরেই বিনিময়ে সমাজে কিছু করার জন্য এগিয়ে এলেন এক দম্পতি। নিজের হাতেই গোটা স্কুলের আবর্জনা পরিষ্কার করলেন তাঁরা, খুশি স্কুল কর্তৃপক্ষ।

বিশেষ উদ্যোগ পুরুলিয়ার দম্পতির

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রতি অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা পেয়েছেন পুরুলিয়ার হুড়ার আমলাতোড়ার বাসিন্দা মমতা মাহাতো। কিন্তু তিনি মনে করেছেন রাজ্য সরকার যেভাবে খারাপ পরিস্থিতিতে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, তাতে এই সমাজের জন্য বিনিময়ে কিছু করা উচিত। আর যেমন ভাবনা তেমন কাজ, তাঁর গ্রামের স্কুলের নলকূপ-সহ আশেপাশে জমে থাকা আবর্জনা সাফাই করলেন তিনি। তবে তিনি শুধু একা নন, সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে তাঁর স্বামী লেলিন মাহাতো। এইভাবে শ্রম দান করায় খুশি স্কুল কর্তৃপক্ষ সহ গ্রামের মানুষজন।

কী বলছেন মমতা দেবী?

জানা গিয়েছে, গত সোমবার সকালে মমতা দেবী তাঁদের গ্রামের আমলাতোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নলকূপের কাছে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য বাড়ি থেকেই কোদাল আর ময়লা ফেলার ধামা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। সমস্ত জায়গা তিনি এবং তার স্বামী ভালোভাবে যত্ন নিয়ে পরিষ্কার করেছিলেন। মমতা দেবী সাংবাদিকদের জানান, “আমাদের মত দরিদ্র মানুষের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছে রাজ্য সরকার। তাই অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা আমি পেয়েছি। তাই সমাজের জন্য কিছু করা উচিত ভেবে স্কুলের নলকূপের পাশে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করলাম।”

আরও পড়ুন: গর্ভবতী দ্বিতীয় স্ত্রী, খবর শুনে দিনহাটার হাসপাতালে পৌঁছে স্বামীকে মারধর প্রথম স্ত্রীর

আমলাতোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃত্তিবাস মাহাতো বলেন, “নিয়মিত স্কুল চত্বরকে পরিষ্কার রাখা হয়। নলকূপটি নিচুতে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলের সাথে আবর্জনা চলে আসে। কিন্তু অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা সহ দম্পতির এই কাজ করে দেওয়ায় অনেকটা সুবিধা হয়েছে। তাঁদেরকে কুর্নিশ জানাই।” স্থানীয়দের কথায়, “সত্যিই এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। যদি সমাজের কাজে আমরা এগিয়ে আসি। তাহলে সত্যি গ্রামগুলি বদলে যাবে। বদলে যাবে শহর, সমাজ।”

google button