মন্দিরের পুরোহিতদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বিপাকে নেহা বোরা, দায়ের FIR

Published:

Neha Bora

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: হিন্দুত্ব-বিরোধিতার একাধিক মন্তব্য করে সম্প্রতি বিতর্কে জড়িয়েছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা (Neha Bora)। ‘মন্দিরের পুরোহিতরা ধর্ষণকাণ্ডে জড়িত’, ‘ব্রাহ্মণ মেয়েরা সুরক্ষিত নয়’, এমনই কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বামনেত্রী। তবে পুরোহিতদের নারীদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করার সেই কথিত মন্তব্যের অপরাধে এবার নেহা বোরার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী দিল্লি পুলিশের দ্বারস্থ হলেন।

নেহা বোরার বিরুদ্ধে এফআইআর

সম্প্রতি নেহার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, দেশের তথাকথিত ব্রাহ্মণ্যবাদী ব্যবস্থা থেকে নারীদের সুরক্ষার প্রয়োজন। তাঁর কথায়, “এই ব্যবস্থার কারণে খোদ ব্রাহ্মণ নারীরা আজ সমাজে অসুরক্ষিত। তাঁদের ধর্ষণ হচ্ছে। মন্দিরের ভেতরের পুরোহিতরাও পর্যন্ত ধর্ষণকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।” পাশাপাশি উন্নাও আর কাঠুয়ার মতো ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে আনেন তিনি। এছাড়া এর আগে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে আরও একটি ভিডিওর কারণে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেখানে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভারতের বিক্ষোভগুলি সঙ্গে তুলনা করেছিলেন নেহা।

তবে এবার ব্রাহ্মণ তথা হিন্দু সমাজকে অপমান করার অপরাধে নেহার বিরুদ্ধে দায়ের হল এফআইআর। নয়াদিল্লির সাইবার পুলিশ স্টেশনের স্টেশন হাউস অফিসারের কাছে দাখিল করা এক অভিযোগে আইনজীবী অমিতা সচদেবা ২০২৩ সালের ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ১৯৪ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য বিধানের আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এই বিবৃতিগুলি বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বাড়াতে পারে এবং জনশান্তি বিঘ্নিত করতে পারে।

আইনজীবী বলেছেন, নেহা বোরাকে নিয়ে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম তা প্রকাশ করছে। অভিযোগ রয়েছে, ভিডিওটিতে নেহা মন্দিরের পুরোহিতদের ওপর নারীদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের দায় চাপিয়ে মন্তব্য করেছেন। ওই মন্তব্যগুলিতে যৌন অপরাধকে একটি পৃথক শ্রেণির মানুষের ওপর আরোপ করা হয়েছে এবং সেগুলিকে একটি নির্দিষ্ট সামাজিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সপ্তাহের মাঝে বদলে গেল সোনা, রুপোর দাম! দেখুন আজকের রেট

তাঁর কথায়, যৌন অপরাধ হল ফৌজদারি অপরাধ। সে যেখানেই ঘটুক না কেন, আইনের কঠোর নিয়মের আওতায় তার তদন্ত এবং বিচার হওয়া আবশ্যক। কিন্তু ঢালাওভাবে একটি সম্পূর্ণ শ্রেণির মানুষের ওপর এই ধরনের অপরাধ চাপিয়ে দেওয়া এবং তা প্রচার করা বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে। ওই বিবৃতিগুলি জনশান্তি এবং শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে ক্ষতিকর ছিল এবং সেগুলির ইলেকট্রনিক প্রচার জনমনে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

google button