প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল হতেই পূর্বরণ সরকার তৃণমূলের প্রতি একের পর এক ক্ষোভ প্রকাশ করে চলেছে দলীয় কর্মী, মন্ত্রী বিধায়কেরা। প্রকাশ্যে আসছে অনেকের মনের ক্ষোভ, বিক্ষোভের কথা। সেই একই ক্ষোভ শোনা গেল প্রয়াত অভিনেতা তাপস পালের (Tapas Paul) স্ত্রী নন্দিনী মুখার্জি পালের কথায়। বিধায়ক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গে টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে রীতিমত আক্রমণ শানান তিনি। ইতিমধ্যেই ভাইরাল সেই পোস্ট।
বিবেক নিয়ে প্রশ্ন নন্দিনীর
বেলাঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে উদ্দেশ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে নন্দিনী মুখার্জি পাল লেখেন, “আপনাকে এক টিভি চ্যানেলে বলতে শুনলাম, ৭১ বছর বয়সী এক নেত্রীর প্রতি বিবেকবান হওয়া উচিত। আপনি এই কথাটি আপনার দলের কিছু বিধায়কের উদ্দেশ্যে বলছিলেন বোধহয়। সত্যি বলতে কী, আপনাদের মুখে বারবার বিবেকের কথা শুনে আমার একটু অস্বস্তি, একটু অশান্তি লাগল। তাই কয়েকটা প্রশ্ন মনে এল। যখন এই নেত্রীর ৫৫-৫৬ বা তার আশেপাশে বয়স ছিল, তখন তার বিবেক কোথায় ছিল? ২০০১ সালে মানুষ কি একমাত্র তার মুখ দেখেই তৃণমূলের প্রার্থীদের ভোট দিয়েছিল?”
কুণালের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তাপস ঘরণী
কুণাল ঘোষকে এদিন তাপস ঘরণী আরও প্রশ্ন করেন যে ২০০৬ সালেও যে কজন তৃণমূল প্রার্থী জিতেছিলেন, মানুষ কি শুধুমাত্র তার মুখ দেখেই তাদের ভোট দিয়েছিল? ২০০৯ সালেও কি একমাত্র তার জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই তার দলের যে কজন প্রার্থী জিতেছিলেন, মানুষ তাদের ভোট দিয়েছিল? এছাড়াও নন্দিনী মুখার্জি পালের অভিযোগ, “আর তখন, যখন তাপস পাল নামক একজন মানুষকে রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত কার্যত ছিবড়ে করে ফেলা হয়েছিল, এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক যন্ত্রণা দিয়ে তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, তখন তাঁর সেই বিবেক কোথায় ছিল?” এরপরই কুণালকে একটু থামার অনুরোধ করলেন তিনি।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মে লাগছে ডিজিটাল রেশন কার্ডের পারিবারিক আইডি, কোথায় পাবেন?
কুণাল ঘোষের জেল কাণ্ডের অভিযোগও করেন নন্দিনী মুখার্জি পাল। তিনি বলেন, “আপনি তো একসময় জেলে গিয়েছিলেন ,আপনার নেত্রীর দয়াতেই। সেই সময় আপনি এই নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অনেক কথা বলেছিলেন, নানা অভিযোগও করেছিলেন। তারপর কী এমন ঘটল যে আজ আপনার সঙ্গে সেই নেত্রীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত রসায়ন সম্পূর্ণ বদলে গেল? এটা কি মতাদর্শের পরিবর্তন? নাকি পরিস্থিতির প্রয়োজন? নাকি অন্য কোনও কারণ? সেই পরিবর্তনের গল্পটাই বরং শুনতে চাই।” যদিও কুণালের তরফে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।










