মমতার উপর হামলা কি এক করে দিল তৃণমূলকে? ঋতব্রত শিবিরের কাণ্ডে জল্পনা

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের (Trinamool Congress) ব্যাপক ভরাডুবিতে মমতার সঙ্গ ছেড়ে চলে যান অনেকেই। সেই তালিকায় রয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের একটা বড় অংশ। তবে, হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উপর হামলা হওয়ায় সোমবার বিধানসভা চত্বরে ধরা পড়ল ভিন্ন ছবি। দল আলাদা হলেও নেত্রী হিসেবে কিন্তু মমতাকেই মানছেন তাঁরা। তাই নেত্রীর উপর হামলার প্রতিবাদে কালীঘাট তৃণমূলের সাথে শামিল হলেন ‘আসল তৃণমূলের’ 3 বিধায়ক। তাহলে কি তৃণমূল নেত্রীর উপর হওয়া হামলাই এক করে দিল ঋত এবং কালীঘাট শিবিরকে? উঠছে প্রশ্ন।

মমতার উপর হামলাই এক করে দিল দুই শিবিরকে?

শুক্রবার, উত্তর 24 পরগনার কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা তথা তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা যায়, এলাকায় তোলাবাজি থেকে শুরু করে মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল বিরজু। পরবর্তীতে অভিযুক্তের মেডিকেল টেস্ট করায় পুলিশ। সন্ধ্যায় স্বামীর সাথে দেখাও করতে থানায় গিয়েছিলেন স্ত্রী। তবে হালিশহর পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, শুক্রবার ভোররাতে তৃণমূলের ওই কর্মীকে অসুস্থ হয়ে লকাপের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে তৃণমূল কর্মীর পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, বিরজুকে জেলের মধ্যে আটকে রেখে খুন করা হয়েছে। আর এই খবর পাওয়া মাত্রই রবিবার হালিশহরে ছুটে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ধরে চোর চোর স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা, জুতোও ছোঁড়া হয়। এমনকি গাড়ির কাঁচ লক্ষ্য করে বড় পাথর মারার অভিযোগ তুলেছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিধানসভা চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে কালীঘাট তৃণমূল।

অবশ্যই পড়ুন: “আমরা ম্যাচ হারলে নাচতো!” ভারতীয় দলের সেই প্লেয়ারের নাম ফাঁস করলেন শামি

এদিন, নেত্রীর উপর হামলার বিরোধিতা করে বিধানসভা চত্বরে প্ল্যাকার্ড হাতে হাজির হয়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে, কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়রা। সেখানেই বিজেপির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁরা। একই সাথে গোটা ঘটনায় ধিক্কার জানান কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়করা। আর সেখানেই নেত্রীর উপর হামলার প্রতিবাদে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে ঋতব্রত শিবিরের তিনজন বিধায়ককে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে বসিরহাট উত্তরের তৌসিফুর রহমান, খিদিরপুরের বিধায়ক আবদুল খালেক মোল্লা এবং বারুইপুর পূর্বের বিভাস সর্দারের। মমতার উপর হামলার প্রতিবাদে কালীঘাট তৃণমূলের বিক্ষোভে ঋতপন্থীদের শামিল হওয়ার বিরল দৃশ্য দেখার পর অনেকেই মনে করছেন, নেত্রীর উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দূরত্ব কমল আসল এবং কালীঘাট তৃণমূলের!