‘মমতার কাছে নতুন গাড়ি চেয়েছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়’ ফাঁস করলেন কুণাল ঘোষ

Published:

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দলের (Trinamool Congress) ভরাডুবির পরেই পাল্টি খাচ্ছেন একাধিক বিধায়ক থেকে শুরু করে সাংসদরা। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের ২২ জন লোকসভা সাংসদ যোগ দিয়েছেন এনডিএ শিবিরে। যার মধ্যে অন্যতম চেনা মুখ উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান এমপি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Bandyopadhyay)। দীর্ঘদিন ধরেই লোকসভার দলনেতার পদ সামলান তিনি। যদিও অসুস্থতার পর তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি তার জন্য অনেক নেতা, কর্মীকে দল ছাড়তে হয়েছে বলেও ওঠে অভিযোগ। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিয় পাত্র ছিলেন তিনি। এবার তাঁকে নিয়েই বোমা পাঠালেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।

দিদির কাছে গাড়ি চেয়েছিলেন সুদীপ!

গতকাল দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বাড়িতে বৈঠক করেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। সেখানে স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠিয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রিপুরা-ভিত্তিক দল এনসিপিআইতে যোগদান করেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রবীণ সদস্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সবথেকে বড় ব্যাপার, বিদ্রোহী সাংসদদের নেতৃত্ব দিতে পারেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এমনটাই চলছিল জল্পনা। তবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “নেতৃত্ব দেওয়ার আমার কোনও ইচ্ছা নেই। ২০১৬ সালে নেতৃত্ব দিয়েছি। এতে কাকলি খুব উদ্যোগী হয়েছে প্রথম থেকেই। তবে আমার চারদিকে যেভাবে চাপ এবং অনুরোধ আসছে, তাতে আমি বেসামাল অবস্থায় রয়েছি।”

এদিকে আজ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েই একেবারে বোমা ফাটান তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ভোটের আগেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটি গাড়ির আবদার করেছিলেন। সাংসদকে উল্লেখ না করে কুণাল এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “মমতা আমার গাড়িটার বয়স হয়ে গেছে। ওটার বদলে একটা নতুন গাড়ি কিনতে চাই। পার্টি কি আমাকে কিছু টাকা দিতে পারে? কিছুদিন হোয়াটসঅ্যাপ করেছিলেন বিচিত্র পরচুলো। অপূর্ব দাবি, আবদার সব নির্লজ্জের মতো। অথচ নির্বাচনী হলফনামায় কোটিপতি। নিজে শুধু নন, বরং ভ্রাম্যমাণ বিউটি পার্লারও কোটিপতি। তবুও গাড়ির টাকা চাই পার্টির থেকেই। গাড়ির বয়স হয়েছে। পাল্টাবে। তাহলে নিজের বয়স হয়েছে, পদে নতুন কেউ এলে কেন গা জ্বলবে? আর অবশ্য যিনি পার্টির কাছ থেকেই গাড়ির টাকা চাইতে পারেন, তিনি দলবদলে আরও কত কী চাইলেন, পেলেন?”

আরও পড়ুন: এবার বন্দে ভারতে করে দিঘা! মেদিনীপুরে রেল প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

তবে কুণাল ঘোষ যে নাম উল্লেখ না করে সরাসরি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি গত পরশুদিনই শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। তাঁর কথায়, “সুদীপদা রোজভ্যালি কাণ্ডে ইডির মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন। তাহলে সুবিধা হবে। তাই হয়তো সুদীপদা গিয়েছেন। ওঁর তো এরকম একটা অভ্যাস রয়েছে। কংগ্রেস গিয়েছিলেন। আবারও তৃণমূলে এসেছেন। এরপর মমতা দিদি ওঁকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছে। সুদীপদা কিছুদিন আগেই আবার মমতার কাছে একটা নতুন গাড়ি চেয়েছিলেন। কারণ দিল্লির গাড়িটার ১৭ বছর হয়ে গিয়েছে। নতুন গাড়ি চাই। মমতা দিদি দেননি। বলেছিলেন, এখন গাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়। দলের পুরনো গাড়ি রয়েছে। ইচ্ছে হলে ব্যবহার করুন।”