সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ তীব্র গরমের মধ্যেই আছরে পড়ল সুপার টাইফুন (Typhoon)। ধ্বংসলীলা চালাতে পারে সিনলাকু টাইফুনটি (Typhoon Sinlaku) বলে আগেই আশঙ্কা করেছিলেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। ঘণ্টায় ২৪০ কিমি বেগে এই সুপার টাইফুন আছড়ে পড়েছে বলে খবর।
২৪০ বেগে আছড়ে পড়ল সুপার টাইফুন সিনলাকু
জানা গিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট একটি সুপার টাইফুন সিনলাকু যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রত্যন্ত দ্বীপে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। প্রবল হাওয়া ও অবিরাম বৃষ্টিতে বহু এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শক্তিশালী টাইফুনের আঘাতে বহু বাড়ির চাল উড়ে গেছে। এদিকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে। সুপার টাইফুন সিনলাকু আজ বুধবার ভোর হওয়ার আগে কয়েক ঘণ্টার জন্য নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানে। গতি কমে যাওয়ার পরেও এটি টিনিয়ান ও সাইপান দ্বীপে সর্বাধিক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় এটি।
এই দ্বীপগুলোতে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ বাস করে। বহু মানুষ দেখেছেন যে বাড়িতে তারা ছোট থেকে বড় হয়েছেন সেগুলি কীভাবে টাইফুনের কবলে পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা অনুসারে, এটি ছিল এই বছর পৃথিবীতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ক্রান্তীয় টাইফুন। দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানার সময় টাইফুনটির গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ মাইল (২৪০ কিলোমিটার) পর্যন্ত ছিল।
কী বলছেন আবহাওয়াবিদরা?
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে যে, ক্রান্তীয়-শক্তির বাতাস এবং ভারী বৃষ্টির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় ভূখণ্ড গুয়ামে আকস্মিক বন্যাও দেখা দিয়েছে। গুয়ামে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ বাস করে। বুধবার ভোরে মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে বাতাসের গতি কিছুটা কমে এলেও পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে উন্নতি হয়নি। সাইপানের মেয়র রামন “আরবি” হোসে ব্লাস কামাচো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি বলেন, “টাইফুনটি আমাদের ওপর খুব কঠিন আঘাত হানছে। এই ভারী বৃষ্টি এবং প্রবল হাওয়ার কারণে আমাদের জন্য লোকজনকে উদ্ধার করা খুব কঠিন। জিনিসপত্র সবদিকে উড়ে যাচ্ছে।”
VIDEO: Major flooding underway at Ironwood Apartments in I Liyang, Northern Mariana Islands as Super Typhoon #Sinlaku tears through the area. pic.twitter.com/OKlkt4Lbr7
— Scott 🇺🇸 (@RandomHeroWX) April 14, 2026
সাইপান হলো উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম দ্বীপ এবং এর রাজধানী। এটি রিসোর্ট, স্নোরকেলিং এবং গল্ফের জন্য বিখ্যাত। ঝড়টির সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব রাতে আঘাত হানে এবং বুধবার সকাল পর্যন্ত এর প্রভাব থাকে। আগামী কয়েক দিনে এটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশা করা হলেও, দ্বীপগুলো অতিক্রম করার সময়ও সিনলাকু একটি ক্যাটাগরি ৪ টাইফুন ছিল।










