ছাপিয়ে গেল লক্ষ্যমাত্রা, আবাস যোজনার সমীক্ষায় নথিভুক্ত ৪০ লক্ষ সম্ভাব্য উপভোক্তার নাম

Published:

Pradhan Mantri Awas Yojana

অনন্যা সরকার, কলকাতা: প্রাথমিকভাবে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (Pradhan Mantri Awas Yojana) অধীনে ৩২ লক্ষ দুঃস্থ মানুষকে পাকি বাড়ি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল রাজ্য সরকার। তবে জেলায় জেলায় সমীক্ষা চালিয়ে এখন দেখা যাচ্ছে এর চেয়েও আরও বেশি সংখ্যক পরিবার রয়েছে, যারা আবাস যোজনার আর্থিক সাহায্য পাওয়ার যোগ্য। সোমবার পর্যন্ত একরকম প্রায় ৪০ লক্ষ নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে হাত সময় আছে আরও এক সপ্তাহ, তাই পঞ্চায়েত দপ্তরের আধিকারিকরা মনে করছেন এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। 

আবেদনকারীর সংখ্যা আবাস যোজনার লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে গেল

প্রথমদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর শর্তাবলির কারণে অনেকের নামেই বাদ পড়ে গিয়েছিল এই প্রকল্প থেকে। প্রাথমিকভাবে, আবেদনকারীর ‘কাঁচা’ বাড়ি থাকার যে আবশ্যিক শর্ত ছিল, তার জেরেই এমনটা ঘটেছিল। পরে রাজ্য সরকারের অনুরোধে কেন্দ্র সেই নিয়মকে শিথিল করায় সরকারি সমীক্ষায় আরও অনেক নাম উঠে এসেছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর যাচাইকরণ ও নির্বাচনের পর চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপি সরকার আবাসের সমীক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে। পঞ্চায়েত মন্ত্রী ও দফতরের আধিকারিকরা বারবার মানুষকে অবগত করেছেন যে, এই সমীক্ষায় নাম নথিভুক্ত না করালে আসন্ন ভবিষ্যতে আবাস যোজনার আর্থিক সাহায্য পাওয়া সম্ভব হবে না। এছাড়া, জেলাশাসকরাও এই সমীক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, নিয়ম মেনে আবেদনকারীদের বর্তমান বাসস্থানের অবস্থা খতিয়ে দেখার পরই ফিল্ডে থাকা কর্মীরা নাম নথিভুক্ত করে নিয়ে যাচ্ছেন। 

আরও পড়ুন: বিনামূল্যে রেশন নিতে এবার দেখাতে হবে টোকেন, না হলে মিলবে না সামগ্রী! নয়া নিয়ম রাজ্যে

সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত দশটি জেলায় নথিভুক্ত করা নামের সংখ্যা প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রাকে অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে। যেমন –  ঝাড়গ্রামে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৬ হাজার, অথচ সমীক্ষায় প্রায় ৬৭ হাজারের বেশি সম্ভাব্য উপভোক্তার সন্ধান পাওয়া গেছে। আবার, জলপাইগুড়িতে লক্ষ্যমাত্রা ১ লক্ষ ২২ হাজার হলেও এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ৪০ হাজারের বেশি নাম নথিভুক্ত করেছেন সমীক্ষকরা। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের মতো কিছু জেলায় এখনও  এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। তবে আশা করা হচ্ছে যে, ঝাড়াই বাছাইয়ের পর কিছু নাম বাদ পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত ৩৫ থেকে ৩৬ লক্ষ উপভোক্তা পাকা বাড়ি তৈরির জন্য সরকারের তরফে আর্থিক সহায়তা পাবেন।