অনন্যা সরকার, গুজরাট: প্রতিটি স্বপ্নপূরণের জন্য শুধু কঠোর পরিশ্রমই নয়, বরং অপমান, বিদ্রূপ এবং একাকীত্ব দিয়েও মূল্য চোকাতে হয়। ইউপিএসসি-র কঠিন সফরে স্মিত পাঞ্চালকেও এই সবকিছু সহ্য করতে হয় (UPSC Success Story of IAS Smit Panchal), তবে এসবে হাল ছেড়ে দেননি তিনি। মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেন অনেকে, ‘ছয়বার চেষ্টা করেও ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না’ – বলে বিদ্রূপ শুনতে হয় তাঁকে। এই বিদ্রূপ আর কটাক্ষই তাঁর জেদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। সিভিল সার্ভিসে যোগদানের দৃঢ় অঙ্গীকার করে অবিরাম কঠোর পরিশ্রম করে যান এবং অবশেষে সেই দিনটি আসে, যেদিন তিনি সাফল্যের সাথে সেই সমস্ত বিদ্রূপের জবাব দিয়েছিলেন। আসুন। তাহলে স্মিত পাঞ্চালের সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক।
বারংবারের ব্যর্থতা থেকে সফলতার পথে যাত্রা
গুজরাটের আহমেদাবাদের বাসিন্দা স্মিত পাঞ্চাল সেখানকারই এল.ডি. আর্টস কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বরাবরই স্বপ্ন দেখতেন একজন আইএএস অফিসার হওয়ার। তাঁর বাবা পেশায় একজন কামার। তিনি অনেক কষ্টে সংসার প্রতিপালন করতেন। কোচিংয়ের সাহায্য নেবেন তেমন অর্থও ছিল না স্মিতের কাছে। ইউপিএসসি-এর প্রথম চেষ্টায় তিনি তাঁর এক খুড়তুতো ভাইয়ের সাহায্য নেন। কিন্তু প্রিলিমসে ব্যর্থ হওয়ার পর, স্মিত আর কারও ওপর বোঝা হতে চাননি। ফিরে আসেন আহমেদাবাদে নিজের বাড়ি।
কিন্তু স্বপ্ন তখনও অধরা, তাই স্মিত হাল ছেড়ে না দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আহমেদাবাদে ফিরে আসার পর একটি বেসরকারি কোচিং ইনস্টিটিউটের ফ্রন্ট ডেস্কে চাকরি নেন স্মিত। তাঁর লক্ষ্য ছিল যেকোনও উপায়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ৫০,০০০ টাকা উপার্জন করা, যাতে তিনি দিল্লিতে ফিরে গিয়ে ইউপিএসসি-র জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন। কয়েক মাস কঠোর পরিশ্রমের পর, তিনি চাকরি ছেড়ে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সাথে আবার পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন।
আরও পড়ুন: পাওনা চাওয়ায় কাঠমিস্ত্রিকে বেধড়ক মারের অভিযোগ! সোহমের বিরুদ্ধে ফের FIR
প্রস্তুতির এই কঠিন দিনগুলিতে তাঁকে অনেক বিদ্রূপ ও অপমানের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। কেউ কেউ বিদ্রূপ করে বলেছিল “ছয়বার চেষ্টা করেও তুমি ইন্টারভিউ পর্যন্তও পৌঁছাতে পারবে না”। মনোবল ভেঙে দেওয়ার মতো এমন অনেক কিছুই বলা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু স্মিত চুপ করে নিজের কাজ করে গেছেন। কারণ তিনি জানতেন একমাত্র সাফল্যই হল এই বিদ্রুপের আসল জবাব।
আরও পড়ুন: অ্যাম্বুলেন্স চালক থেকে ইসরোর টেকনিশিয়ান, স্বপ্নের উড়ান নদিয়ার দেবজিতের
চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর স্মিত ২০২৪ সালের ১ মার্চ তাঁর সমস্ত মনোযোগ দিয়ে ইউপিএসসি প্রিলিমস পরীক্ষা দেন ও তাতে সফল হন। প্রিলিমস পাশ করার পর তার আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বেড়ে গিয়েছিল। এরপর তিনি দিল্লি গিয়ে মেইনস পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তিন মাস কাটান। সেখানে তিনি তাঁর এক ভাইয়ের সাথে একটি ছোট ঘর ভাড়া করে থাকতেন এবং দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করতেন। অবশেষে যাকে নিয়ে নানা লোকে নানা কথা বলতো, সেই ছেলেটিই ইউপিএসসি-র মতো কঠিন পরীক্ষায় ৩০তম র্যাঙ্ক (AIR) অর্জন করে একজন আইএএস IAS) অফিসার হয়ে সমস্ত কটাক্ষ ও বিদ্রুপের যোগ্য জবাব দিয়েছেন। তার এই সাফল্যের কাহিনী আজ লক্ষ লক্ষ তরুণ তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।










