অ্যাম্বুলেন্স চালক থেকে ইসরোর টেকনিশিয়ান, স্বপ্নের উড়ান নদিয়ার দেবজিতের

Published:

অনন্যা সরকার, নদিয়া: অদম্য জেদ ও ইচ্ছেশক্তির জোরে মানুষ পারে না এমন কোনও কাজ নেই। কঠিন পরিস্থিতির সাথে লড়াই করে অসামান্য সাফল্য অর্জন করে এমনটাই প্রমাণ করে দেখালেন নদিয়ার গাংনাপুরের দেবজিৎ ভদ্র (Success Story of Debjit Bhadra)। সংসার প্রতিপালনের জন্য চালাতেন অ্যাম্বুলেন্স, এখন কঠোর পরিশ্রমের জোরে দেশের মর্যাদাপূর্ণ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ISRO)-এ কাজের সুযোগ পেলেন যুবক। দেবজিৎ জানিয়েছেন ইউটিউব (YouTube)-এর সাহায্য না পেলে তিনি এই সাফল্যে অর্জন করতে পারতেন না। আসুন তাহলে দেবজিৎ ভদ্রের এই সাফল্যের কাহিনীটি সর্ম্পকে বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

অ্যাম্বুলেন্স চালকের ইসরো যাত্রা

দেবজিৎ ভদ্র শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকের কাজ করতেন। তবে তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল একদিন তিনি ইসরোতে গবেষক হিসেবে কাজ করবেন। কিন্তু পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তার দিনের বেশিরভাগ সময়টাই কেটে যেত অ্যাম্বুলেন্স চালিয়েই। দিনের প্রায় ১২ ঘণ্টা কর্মস্থলে ব্যয় করেও নিজের স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দেননি দেবজিৎ। দীর্ঘসময় কর্মস্থলে কাটিয়েও কাজের ফাঁকে নাহলে অবসর সময়ে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। ইউটিউবে উপলব্ধ লেকচারের ভিডিও ও অন্যান্য তথ্যমূলক ভিডিও দেখে পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি।

আরও পড়ুন: ৫ লাখে কিনতে চেয়েছিল সার্কাস, NEET ক্র্যাক করে আজ ডাক্তার গরিব কৃষকের ছেলে গণেশ

এর পাশাপাশি, প্রস্তুতি আরও ভালো করার জন্য কোচিং সেন্টারেও ভর্তি হন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন তিনি। কিন্তু এই স্বপ্নপূরনের পথে ছিল অনেক বাধা। পাঁচ থেকে ছয়বার পরীক্ষা দেওয়ার পরও ব্যর্থতার সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। তবে হাল ছেড়ে না দেওয়ায় অবশেষে পেলেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। তিনি শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত ইসরোর সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারে ‘টেকনিশিয়ান বি’ পদে যোগ দেওয়ার জন্য মনোনীত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: মানবসেবার উদ্দেশ্যে ছাড়েন মাইক্রোসফটের চাকরি, UPSC ক্র্যাক করে আজ IAS গার্গী

ছেলের এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই খুশি দেবজিতের মা চায়না ভদ্র। তিনি জানান, সংসারে টাকা পয়সার টানাটানি থাকলেও ছেলের স্বপ্নকে সবসময় গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁকে নিজের লক্ষ্যপূরণের জন্য উৎসাহ দিয়ে গেছেন তাই। দেবজিতের এই সাফল্যকে তিনি দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের প্রতিদান হিসেবেই দেখছেন। অন্যদিকে, তাঁর বাবা দীপক ভদ্রও ইসরোর মতো সংস্থায় দেবজিতের এই চাকরি পাওয়া নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। ইসরোতে কাজের সুযোগ পাওয়ায় এখন খুশির হাওয়া বইছে দেবজিতের পরিবারে। স্বামীর এই সাফল্যে যারপরনাই খুশি স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা ভদ্রও। অনেকদিনের কঠোর পরিশ্রম সফল হওয়ায় আনন্দের ঢল নেমেছে এখন দেবজিত ভদ্রর পরিবারে।