তিন বছর জমি অব্যবহৃত থাকলে ফেরত নেবে সরকার

Published:

Land Return Policy

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পরিবর্তনের বাংলায় এবার নয়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের (Government Of West Bengal)। জমি লিজ নিয়ে যারা বছরের বছর পর ফেলে রেখেছেন, তাদের বিরুদ্ধে এবার কড়া ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। জানা গিয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের পর নাকি এবার থেকে সেই অব্যবহৃত জমি ফেরত (Land Return Policy) নেওয়া হবে। পূর্বতন সরকারের আমল থেকেই জমি অধিগ্রহণ নিয়ে নানা অশান্তি বিতর্ক হয়ে চলেছে। কিন্তু এবার শিল্প গড়ার লক্ষ্যে সেই অশান্তি দূর করতে উঠে পড়ে লাগল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।

জমি সমস্যা কাটাতে নয়া পরিকল্পনা রাজ্যের

রাজ্যে শিল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রথমেই প্রশাসনকে জমি সমস্যা মেটাতে হবে। কারণ মাথাপিছু জমির পরিমাণ তুলনায় কম হওয়ায় শিল্পের জমি জোগাড় করাই এই রাজ্য সরকারের সামনে অন্যতম সমস্যা। কিন্তু এবার ক্ষমতার রদবদল হতেই শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানে জোর দিচ্ছে বিজেপি সরকার। তাই শিল্পের জমি জোগাড়ে দু’টি পৃথক পরিকল্পনা করা হয়েছে। একটি হল তিন বছরের বেশি সময়ে কোনও জমিতে শিল্প না গড়লে তা সংশ্লিষ্ট শিল্পসংস্থার থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এবং দ্বিতীয়টি হল, ইচ্ছুক কৃষকদের সমবায় তৈরি করে তার মাধ্যমে শিল্প সংস্থাকে সরাসরি জমি কিনিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

জমি দেওয়া হবে শিল্পসংস্থাকে

আসলে তৃণমূল সরকারের আমলে এমন অনেক ঘটনা দেখা গিয়েছিল যেখানে বহু সংস্থা অনেক পরিমাণ জমি বহু বছর ধরে ফেলে রেখেছে। কারও আবার সেই জমি ভিন্ন ভাবে ব্যবহার করে মুনাফার কৌশল রয়েছে। বারংবার আধিকারিকরা এই নিয়ে অভিযোগ জানালেও প্রশাসনের তরফে সমস্যার সমাধান হয়নি। কিন্তু বিজেপি সরকার আসতেই উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে তিন বছরের বেশি সময়ে কোনও সংস্থা শিল্প না গড়লে তার হাত থেকে জমি ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এবং সেই জমি ইচ্ছুক কোনও শিল্পসংস্থাকে দিতে পারে। আশা করা যাচ্ছে এবার হয়ত শিল্পের জন্য আর জমি সমস্যা হবে না।

আরও পড়ুন: এসি বাসে কলকাতা থেকে টাটা, দীর্ঘদিন পর ফের শুরু পরিষেবা, জানুন রুট ও সময়সূচি

এদিকে সরকারের নির্দেশ মিলতেই জেলায় জেলায় জমির সমীক্ষা শুরু হয়েছে, এমনকি নিউটাউনের সিলিকন ভ্যালিতে কারখানা গড়ার জন্য জমি পেয়েও, সে কাজ করেনি সেই নিয়েই চলছে জিজ্ঞাসাবাদ ২০১৮-১৯ সালে যারা জমি পেয়েছিল, অথচ তা ব্যবহার করেনি, তাদের থেকেও জমি ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে। এছাড়াও শিল্পের জন্য জমি দিতে রাজি, এমন কৃষকদের নিয়ে সমবায় তৈরি হতে পারে। কৃষকেরা তাঁদের জমি সেই সমবায়কে দেবেন। যে শিল্পসংস্থা বিনিয়োগে আগ্রহী, তাদের সেই জমি বিক্রি করবে সেই সমবায়। এতে কৃষকদের কীভাবে লাভ নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা চলছে।