ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে ইউনিট প্রতি এক্সট্রা চার্জ, পকেট খসবে বাংলাদেশের

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারত (India) থেকে বিদ্যুৎ (Electricity) আমদানি আরও ব্যয়বহুল হচ্ছে বাংলাদেশের (Bangladesh) জন্য। ওপার বাংলার সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রিড পরিচালনা ও বিদ্যুৎ লেনদেনের হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত সমস্যার নিষ্পত্তির জন্য বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উপর সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি চার্জ বসতে চলেছে। যা খবর, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে 0.005 টাকা চার্জ করা হতে পারে। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে যে অর্থ দিতে হয় তার থেকে আলাদা করে এই চার্জ গুনতে হবে বাংলাদেশকে।

ঠিক কোন কারণে এই চার্জ গুনতে হবে বাংলাদেশকে?

বাংলাদেশের ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিড পরিচালনা থেকে শুরু করে মিটারিং, শিডিউলিং, বিদ্যুতের হিসাব-নিকাশ এবং আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেন সংক্রান্ত ব্যয় মেটাতেই বাংলাদেশের কাছ থেকে এই অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যিক সংস্থা প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি এনভিভিএন ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ বোর্ডের সাথে চুক্তিতে যেতে উদ্যোগী হয়েছে বলেই খবর। সেই মর্মে, আলোচনা একপর্যায়ে শেষের পথে।

ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, দীর্ঘ দর কষাকষির পর শেষ পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কাছ থেকে অতিরিক্ত চার্জ বাবদ 0.005 টাকা ধার্য করা হবে। জানা গিয়েছে, ভারতীয় বিদ্যুৎ বিষয়ক আইনের অধীনে স্বাক্ষরিত হবে এই চুক্তি। তবে শেষ পর্যন্ত যদি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে দেরি হয় বা বিলম্ব হয় সেক্ষেত্রে 1,160 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কায় বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন: গ্যাসের আস্তরণে জ্বলল আগুন, অশোকনগর থেকে তেল উত্তোলন সময়ের অপেক্ষা

ভারতীয় বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে এবং আনুষাঙ্গিক খরচ তুলতে যে অতিরিক্ত অর্থ চার্জ করা হচ্ছে তা অনেকটাই কম। তবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বোর্ড কর্তাদের একাংশের দাবি, পরিমাণটা আপাতদৃষ্টিতে কম হলেও বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণটা অনেক। জানা গিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব বিশেষ চুক্তির অধীনে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে লোডশেডিং থেকে নিস্তার পেতে চাইছে বাংলাদেশ! এখন দেখার, সমস্ত শর্ত মেনে শেষ পর্যন্ত ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা চুক্তিতে সই করে কিনা।