মহালয়া ২০২৬ কত তারিখে? দেখুন দেবীপক্ষের দিনক্ষণ ও আচারবিধি

Published:

Mahalaya 2026

সৌভিক মুখার্জী, তারাপীঠ: মহালয়া ২০২৬ কত তারিখে (Mahalaya 2026)? বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। তার মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় উৎসব হল দুর্গাপুজো। তবে দেবীপক্ষের শুভ সূচনা হয় এই মহালয়ার মাধ্যমেই। এদিন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে সেই মহিষাসুরমর্দিনী না শুনলে যেন বাঙালির কিছু একটা কম থেকে যায়। তবে এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে মহালয়া কত তারিখে পড়ছে (Date of Mahalaya 2026), কখন শুনবেন মহালয়ার অনুষ্ঠান? সমস্ত তথ্য জানাব এই প্রতিবেদনে।

মহালয়া ২০২৬

প্রথমেই জানিয়ে রাখি, মহালয়া শব্দের অর্থ হল মহান আলয় বা মহান আশ্রয়। এদিন পিতৃপক্ষ শেষ হয়ে দেবীপক্ষের শুভ সূচনা হয়। অর্থাৎ মা দুর্গার আগমন হয় এই দিনটিতেই। দেবী দুর্গা কৈলাস থেকে এদিন পিতৃগৃহে আগমন করেন। আর মহালয়ার ঠিক ৫ দিন পর শুরু হয় দেবী দুর্গার আরাধনা। এমনকি পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে যাঁরা তর্পণ করেন, তাঁরা এই মহালয়ার শুভ দিনটিকেই বেছে নেন।

মহালয়া ২০২৬ কত তারিখে? (Mahalaya 2026 Date)

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালে মহালয়া পড়ছে—

  • ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১০ অক্টোবর, শনিবার।
  • অন্যদিকে বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই দিনটি ২২ আশ্বিন, ১৪৩৩।

বিষয়

তথ্য

উৎসবের নাম

মহালয়া ২০২৬

বাংলা তারিখ

২২ আশ্বিন, ১৪৩৩
ইংরেজি তারিখ

১০ অক্টোবর, ২০২৬

বিশেষ মাহাত্ম্য

দেবীপক্ষের শুভ সূচনা

বিশেষ কর্মসূচি

পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ

দুর্গাপুজো ২০২৬ সময়সূচি (Durga Puja 2026 Date)

অন্যদিকে এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর সময়সূচি নিয়ে যদি আলোচনা করি, তাহলে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী—

  • চতুর্থী পড়ছে ১৪ অক্টোবর, বুধবার। বাংলা ২৬ আশ্বিন।
  • পঞ্চমী পড়ছে ১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার। বাংলা ২৭ আশ্বিন।
  • ষষ্ঠী পড়ছে ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার। বাংলা ২৮ আশ্বিন।
  • সপ্তমী পড়ছে দু’দিন। ১৭ এবং ১৮ অক্টোবর, শনি এবং রবিবার। বাংলা ২৯ এবং ৩০ আশ্বিন।
  • অষ্টমী পড়ছে ১৯ অক্টোবর, সোমবার। বাংলা ১ কার্তিক।
  • নবমী পড়ছে ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার। বাংলা ২ কার্তিক।
  • বিজয়া দশমী পড়ছে ২১ অক্টোবর, বুধবার। বাংলা ৩ কার্তিক।

মহালয়ার তাৎপর্য

আগেই জানিয়েছি, মহালয়ার এই বিশেষ দিনটিতে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটে, এবং শুরু হয় দেবীপক্ষ। আবার ভিন্ন মতে, মহালয়াকে পিতৃলোক হিসাবেই মনে করা হয়। ব্রহ্মার নির্দেশেই নাকি এই মহামিলনক্ষেত্র গড়ে উঠেছিল। এই সময় পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করে থাকে মানুষ। এমনকি শাস্ত্র বলছে, হিন্দুদের পালনীয় যে পঞ্চ মহাযজ্ঞের বিধান রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম পিতৃযজ্ঞ। এর মাধ্যমে পিতৃপক্ষের উদ্দেশ্যে জল দান করা হয়। আর এর মহাপ্রকাশ পিতৃপক্ষের শেষ দিনটিতেই হয়। অর্থাৎ মহালয়া।

মহালয়ার আচারবিধি

প্রতি বছরের মতো মহালয়ার এই বিশেষ দিনটিতে কিছু নিয়ম বা আচারবিধি মেনে চলতে হয়।

  • প্রথমত এদিন ভোরবেলা বাংলার প্রতিটি ঘরে রেডিও বা ডিজিটাল মাধ্যমে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী শোনেন সকলে।
  • তবে যেহেতু এইদিন অমাবস্যা তিথি থাকে, তাই নদী কিংবা কোনও পবিত্র জলাশয়ে গিয়ে পূর্বপুরুষ বা মৃত আত্মাদেরকে জল, তিল ইত্যাদি অর্পণ করতে হয়।
  • এই পবিত্র দিনটিতে মহিষাসুরমর্দানীর পাশাপাশি চন্ডীপাঠ শুনতে পারেন।
  • পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের স্মরণের পাশাপাশি ব্রাহ্মণ কিংবা পুরোহিতদের সাহায্যে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারেন।
  • দরিদ্র কিংবা অভাবী মানুষদের অন্ন, বস্ত্র বা সাধ্য মতো দান করলে পূর্ব পুরুষদের আশীর্বাদ লাভ হয় বলেই বিশ্বাস করা হয়।

আরও পড়ুন: গণেশ চতুর্থী ২০২৬ কত তারিখে? দেখুন তিথির দিনক্ষণ, সময়সূচি ও পূজার নিয়ম

মহালয়ার দিন মোটেও করবেন না এই কাজ

মহালয়ার এই বিশেষ দিনটিতে কিছু ভুল করলেই নিজের থেকে শুরু করে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যদের উপর নেমে আসতে পারে বিপদ। জেনে নিন কী কী করবেন না।

  • এদিন মা দুর্গার উদ্দেশ্যে নিরামিষ খাবার গ্রহণ করা উচিত। আমিষ খাবার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ।
  • প্রচলিত বিশ্বাস মতে মহালয়া বা পিতৃপক্ষের সমাপ্তির দিন চুল, দাড়ি বা নখ কাটা উচিত নয়।
  • এই দিনটিতে বাড়িতে কোনও শুভ বা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান কিংবা পুজো আয়োজন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • পাশাপাশি এই পবিত্র দিনটিতে অশান্তি বা ঝগড়া করা উচিত নয়। এছাড়া কারও প্রতি বিদ্বেষ রাখবেন না।
google button