সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভোটার কার্ড কিংবা আধার কার্ড বানাতে খরচ করা লাগে না এক পয়সাও। তবে আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, পাসপোর্ট (Passport) বানাতে কেন ২৫০০ টাকা গুনতে হয়? তাছাড়া এমার্জেন্সি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করলে আরও বেশি টাকা প্রয়োজন পড়ে। কেন সরকার সামান্য পাসপোর্টের জন্য এত টাকা ধার্য করে, এবং দিনের পর দিন বাড়ানো হচ্ছে চার্জ? সম্প্রতি কেন্দ্রের তরফ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
পাসপোর্ট বানাতে কেন ২৫০০ টাকা প্রয়োজন?
জানিয়ে রাখি, সম্প্রতি পাসপোর্ট বানানোর চার্জ অনেকটাই বাড়ানো হয়েছিল কেন্দ্রের তরফ থেকে। এই ফি বাড়ানো নিয়ে সংসদের চলতি অধিবেশনে সরকারকে প্রশ্ন করা হয়। সেক্ষেত্রে সরকার ব্যাখ্যা করে, পরিষেবার মান উন্নয়নের জন্যই পর্যায়ক্রমে পাসপোর্টের ফি সংশোধন করা হয়। যথাক্রমে ১৯৭১, ১৯৮০, ১৯৯৩, ২০০২ এবং ২০১২ সালে পাসপোর্টের ফি সংশোধন করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর পর চলতি বছরের জুন মাসে আবারও কিছুটা বাড়ানো হয়েছে পাসপোর্ট বানানোর চার্জ।
কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পাসপোর্ট পরিষেবার উন্নতি হলেও অন্যান্য খরচ দিনের পর দিন বেড়েছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণের জন্য সরকারকে এখন বেশি পরিমাণে অর্থ ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট বুকলেট তৈরির খরচ, পাসপোর্ট বুকলেটে তথ্য ছাপানোর খরচ, পরিষেবা প্রদানকারীর জন্য আলাদা চার্জ, পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পুলিশ বিভাগকে দেওয়া চার্জ, পোস্ট অফিসকে দেওয়া চার্জ, কুরিয়ার ফি, কারিগরি খরচ এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা খরচ। এত কিছু একসঙ্গে সামলানোর জন্যই পর্যায়ক্রমে চার্জ বাড়ানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিনা অনুমতিতে স্কুলে প্রবেশ, শিক্ষকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ! অভিজিতের বিরুদ্ধে FIR পুলিশের
এমনকি কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বা অবকাঠামোর সঙ্গে জড়িত রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খরচ। কারণ, গত কয়েক বছর ধরেই পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে বেশি পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়েছে, এবং নিরাপত্তা সংস্থা চিপভিত্তিক ই-পাসপোর্ট তৈরির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। এমনকি বর্তমান সময়ে এই ই-পাসপোর্ট তৈরির জন্য সরকারকে বেশি টাকা খরচ করতে হয়। সেই কারণেই চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত।










