সহেলি মিত্র, কলকাতা: যত সময় এগোচ্ছে ক্ষোভ তত বেড়েই চলেছে সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে পেনশন প্রাপকদের (Pension)। বিশেষ করে পেনশনভোগীদের পেনশন পরিশোধে অসঙ্গতি, মহার্ঘ ভাতা (Dearness allowance) গণনার সমস্যা এবং বকেয়া পরিশোধ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সকলেই খুব উদ্বিগ্ন। এদিকে ট্রেজারি থেকে যে টাকা রিলিজ করা হয়েছে তা নিয়েও চিন্তিত অনেকে। মূল বিষয় হলো DA গণনার ত্রুটির কারণে পেনশনভোগীরা কম টাকা পাচ্ছেন এবং এই বিষয়ে স্বচ্ছতা ও সঠিক পরিশোধের দাবি জানানো হচ্ছে। আর এই বিষয়ে আবারও সরব হলেন ডিএ মামলাকারী মলয় মুখোপাধ্যায়।
সরকার টাকা কেটে নিল পেনশনভোগীদের?
পেনশনভোগীরা তাদের প্রত্যাশিত পরিমাণের চেয়ে কম টাকা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গণনা পদ্ধতির (যেমন ৬০৫ পয়েন্ট) কারণে অর্থ হ্রাস পাচ্ছে। এই বিষয়ে মলয় মুখোপাধ্যায় একটি পোস্টে বলেন, “গত ১৭-১৮ আগস্ট যারা ট্রেজারি থেকে পেনশন পান এবং সেখান থেকে বকেয়া ডিএ পেয়েছেন সেইরকম একজন পেনশন প্রাপক আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি জানান যে, মলয়বাবু আমার পেনশন ঢুকেছে না। খুব আতঙ্কে আছি।’ ৯০০০ বা এরকম হবে নাকি পেনশন হিসেবে মেসেজ ঢুকেছে। মাসের তো মাঝামাঝি পেনশন তো পাওয়া যায় না, ১ তারিখ বা ২ তারিখের মতো করে হয়। ৬০৫ ধরে যে ডিএ ক্যালকুলেশন করা হয়েছে, যার জন্য আমাদের অনেক শতাংশ ডিএ কম কমে পাচ্ছি। মানে, ১০০ টাকা হলে আমরা ৪৩ টাকা পেয়েছি, ৫৭ টাকা পাইনি।”
মলয় মুখোপাধ্যায় জানান, ‘আপনাদের মনে আছে, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের ঠিক আগের দিন, ট্রেজারি থেকে পেনশন পান এমন ব্যক্তিরা তাঁদের নিয়মিত পেনশনের পাশাপাশি বেশ কিছু টাকা পেয়েছিলেন? আমরা সেদিন প্রশ্ন তুলেছিলাম যে এই টাকা সরকারি তহবিল থেকেই এসেছিল কিনা। কোনো নোটিফিকেশন ছাড়াই সরকারি তহবিলে টাকা দাবি করা যায় কি না, সেদিন এই বিষয়ে কোনো উত্তর আমরা পাইনি। পাইনি বলেই ব্যাক ডেটে অর্ডার বার করা হয়। সেই সময়েও কিন্তু বকেয়া ডিএ-টাই দেওয়া হচ্ছিলো, পেনশন নয়। পেনশন হোল্ডারদের যেহেতু পেনশন বেসিকটা ফিক্সড, তাদের তো খুব সহজেই দিয়ে দেওয়া যায়। কারণ যে ভাগের ডিএ-টা আমরা পাইনি, বকেয়া ছিল, ব্যাকলক ছিল, সেটা হিসেব করলে বোঝা যাবে। আমরা তো বার বার তুলে ধরেছি, ট্রাইব্যুনালে, উচ্চ আদালতে। যদি সহজভাবে হিসেব করতে হয়, তবে ৬০৫ ধরে আমাদের বকেয়া ডিএ শূন্য হয়ে গেছে, শূন্যের পরে মাইনাস হয়ে যাচ্ছে। মামলা হওয়ার পর শুনানির পরেও ডিএ দিয়েও ডিএ কেটে নিচ্ছে! আমরা সবটা তুলে ধরবো বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু মাননীয় সঞ্জয় কারোল এবং পিকে মিশ্রের বেঞ্চ আর কিছু শুনতে চায়নি। সবটাই ইন্দু মালহোত্রার কমিটিতে সপে দিয়েছে। সেখানে আমরা সব বলবো। ১. ৪. ০৮ সেখান থেকে দুই শতাংশ ডিএ পেয়েছিলাম। তারপর ৬% ডিএ পাঁচ মাস পেয়েছিলাম। এভাবে ১২ % পেয়েছিলাম। বামফ্রন্ট সরকার ১ বার দিয়েছিলো, তারপর সেই সরকার চলে যাওয়ার পর তৃণমূল সরকার দুটো ভাগে দিয়েছে। এখন সরকার বলছে যে ৬ শতাংশ ডিএ, দুই এর পরে ৬ শতাংশ, ছয় শতাংশের পরে নয় শতাংশ, তার পরে এক মাস বারো শতাংশ। এইটা আমি উদাহরণ দিয়ে বলছি। এখানে দেখি যে দুই আর দুই, দুমাস পেয়েছিলাম। সেই শতাংশ, পরে যে সেই শতাংশ করলো না, সেই শতাংশ হবে না। মাইনাস থ্রি, তিন শতাংশ হবে। তাহলে, ওই যে শতাংশ পাঁচ মাস পেয়েছিলাম, প্রত্যেক মাসে তিন শতাংশ করে মাইনাস দেখিয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যে বামফ্রন্ট সরকার যে ডিএটা দিয়েছে, তাঁরা তো ঘন ঘন দিয়েছে।’
ভয়ের মধ্যে রয়েছেন সরকারি কর্মীরা!
মলয়বাবু বলেন, ‘সরকার যে বেতন কমিয়েছে, তাতে কর্মচারীদের মনে একটা ভয় আছে যে সরকার কর্মচারীদের যা দিয়েছে, সেখান থেকে সরকার টাকা কেটে নিয়েছে। এটা হতে পারে, কারণ তাহলে হিসেবটা বেশি হয়েছে। এবার যখন হিসেব-নিকেশ হয়ে গেছে, তখন সেই হিসাবে তারা প্রাপ্য পাবে। আবার কর্মচারীদের হিসাব যোগ করে ওই অংশটা আবার ট্রেজারিতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে টাকার পরিমাণ বেশি হবে। সরকারকে বলতে হবে যে, এই যে দেখুন, ওরা ১৬ থেকে ২০১৯ সালের জন্য যা পেয়েছে, তা তো বিগত সরকারই দিয়েছিল, আমরা সবাই জানি। সেটাকে কিন্তু কম করে দেখানো হচ্ছে, ৫০ শতাংশকে ২৫ শতাংশ বলা হচ্ছে। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালে, যেটার জন্য আমরা ১২৫ বলে কথা দিয়েছিলাম, সেখানে ৩৯ শতাংশ করে দেওয়া হয়েছে, সেখানে ৩৯ শতাংশ। যেখানে ৪৮ শতাংশ ডিএ দেওয়ার কথা, সেখানে ১৫ শতাংশ দেওয়া হয়েছে। এভাবে ডিএ দিতে গিয়ে আমরা ৪৩ শতাংশ ডিএ পেয়েছি। ওই ১৬ থেকে ১৯ পর্যন্ত যে ক্যালকুলেশন আমরা করেছি, ইন-সার্ভিস-এর যারা আছেন, তারাও ক্যালকুলেশন করেছেন। তাদের হাতে তো HRMS আছে। যাইহোক, আমাদের বকেয়া টাকা আমাদের দিতে হবে এটাই দাবি।’
সরকারি কর্মীদের দাবি, পেনশন গণনা এবং পরিশোধে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।পেনশনভোগীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সঠিকভাবে গণনা করা এবং তা সময়মতো পরিশোধ করা আবশ্যক। সরকারের উচিত ফান্ড স্থানান্তর বা পরিশোধ সংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করা।










