দুর্গাপুরে মন্দিরে ঢুকে সিংহাসন ভাঙচুর তৃণমূল নেতার, ‘গ্রেফতার হবে’ হুঁশিয়ারি BJP বিধায়কের

Published:

Durgapur

সৌভিক মুখার্জী, দুর্গাপুর: তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চুরি, দুর্নীতি এমনকি অপকর্মের অভিযোগ ভুরি ভুরি। তবে এবার সেই রাজনৈতিক বিরোধীতার প্রভাব পড়ল মন্দিরে। সূত্রের খবর, দুর্গাপুরের (Durgapur) অমরাবতী মন্দিরের ভিতরে ঢুকে শ্বেত পাথরের সিংহাসন ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরেই ওই মন্দিরের সঙ্গে বিবাদ চলছিল তাঁর। সেই কারণেই রাতের অন্ধকারে এই অপকর্ম ঘটিয়েছে তৃণমূল নেতা। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে পৌঁছয় পুলিশ, এবং দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে মন্দিরের সিংহাসন ভাঙচুরের অভিযোগ

রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের নিউ টাউনশিপ থানার অমরাবতীর শিবশক্তির মন্দিরে। তৃণমূল জমানায় এই মন্দিরটির বেহাল দশা ছিল। কিন্তু রাজ্যে পালাবদল হতেই ঢেলে সাজানো হয়েছে মন্দিরটি। শ্বেত পাথরের তৈরি একটি সিংহাসনের উপরেই শিব-পার্বতীকে বসানো হয়েছে। এমনকি প্রতিদিন নিয়ম করে সেখানে ধুমধুম করে পূজার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি দূর দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় জমান। সেই মন্দিরে এবার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল স্থানীয় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।

সূত্রের খবর, ক্ষমতায় থাকাকালীন ওই মন্দিরের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের বিবাদ তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের। তবে এদিন রাতে তিনি ওই মন্দিরের সেবাইতের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাবি নেন। এরপর তালা খুলে ভেতরে ঢুকেই শ্বেত পাথরের ওই সিংহাসনটি ভাঙচুর করেন। তবে পরে এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তবে ততক্ষণে বগারপাড় ওই তৃণমূল নেতা।

আরও পড়ুন: অভিষেকের আমতলার কার্যালয় লিপ্স অ্যান্ড বাউন্সের সম্পত্তি নয়! যা জানাল হাইকোর্ট

এদিকে পুলিশের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট জানান, “এটাই তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কালচার। তৃণমূলের জমানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলতেন যে রামকৃষ্ণদেব নাকি তৃণমূল। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলেরই নেতা বিশ্বজিৎ বিশ্বাস। সেই কারণেই এইসব কাজ করছে। আমরা থানায় ইতিমধ্যেই পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। ওই অভিযুক্ত যদি পাতালেও লুকিয়ে থাকে, তাহলে সেখান থেকে খুঁজে বের করে এনেই গ্রেফতার করা হবে।” এমনকি এ বিষয়ে মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান জানান, “ওই ব্যক্তি মানুষের ভাবাবেগে আঘাত দিয়েছে। যে সিংহাসনটি ভাঙচুর করেছে সেটি অত্যন্ত মূল্যবান। দোষীর উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা।”