বঙ্গবিভূষণ কেড়ে নিতেই নেতাজি ইস্যুতে ক্ষমা চাইলেন অনন্ত মহারাজ, দায়ের হল FIR

Published:

Ananta Maharaj

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গতকাল, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কুকথা বলার ফলস্বরূপ অনন্ত মহারাজের (Ananta Maharaj) ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কেড়ে নিয়েছিল বিজেপি সরকার। আগেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে (Netaji Subhash Chandra Bose) নিয়ে বার বার অসম্মানজনক মন্তব্য করার পরে নাম না করে তাঁকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এমতাবস্থায় চাপের মুখে পড়ে অবশেষে মাথা ঝোঁকালেন অনন্ত মহারাজ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে ক্ষমা প্রার্থনার একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন তিনি।

নেতাজিকে অপমানজনক মন্তব্য অনন্ত মহারাজের

কয়েক দিন আগে নেতাজি এবং তাঁর তৈরি আজাদ হিন্দ ফৌজকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনের নেতা অনন্ত মহারাজ। সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, “কোচবিহারের মহারাজা সারা পৃথিবীকে স্বাধীন করেছিলেন। কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে ডেস্ট্রয় করেছে। কোনও নেতাজির ক্ষমতা ছিল না আজাদ হিন্দ ফৌজ তৈরি করার।” এখানেই শেষ নয়, তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন যে, “ব্রিটিশ সৈন্যদের জার্মান নিয়ে গিয়েছিল বন্দি করে। সেই জার্মান তাদেরকে নেতাজির হাতে তুলে দিয়েছিল। নেতাজি সেটাকে অপব্যবহার করেছে।” আর এই মন্তব্যের পরেই বিতর্কের ঝড় বয়ে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে।

হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদের এই মন্তব্যে নড়েচড়ে বসে রাজ্য সরকার। গত বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন থেকে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কোনও অপমানজনক মন্তব্য সহ্য হবে না, শাস্তি পেতেই হবেই। এমনকি, অভিযুক্ত যদি জনপ্রতিনিধি হন, তা হলেও নিস্তার মিলবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অর্থাৎ বোঝাই গিয়েছিল যে তাঁকে নিশানা করেই শুভেন্দু এই মন্তব্য করেছিলেন। তার পরেও ক্ষমা চাননি অনন্ত। এরপরেই গতকাল, বৃহস্পতিবার, অনন্ত মহারাজের বঙ্গ বিভূষণ সম্মান কেড়ে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: কলকাতার বদলে সুন্দরবনে প্রথম পতাকা তুলবেন মুখ্যমন্ত্রী, বিশেষ ভাবনা সরকারের

ক্ষমা চাইলেন অনন্ত মহারাজ

বঙ্গ বিভূষণ সরিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, রাজ্যের প্রতি অবদানের জন্য তাঁকে ওই সম্মান দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কুমন্তব্য করায় ওই সম্মান অনন্ত মহারাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এদিকে সরকারের এই পদক্ষেপের পরে রাতেই নিজের ফেসবুক পেজ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করে ভিডিয়ো পোস্ট করেন অনন্ত। তিনি জানান, “নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্য কেউ যদি মানসিক ভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।”

এদিকে নেতাজি ইস্যুতে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করল কোচবিহার জেলা পুলিশ। সবমিলিয়ে নেতাজির উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্যের মামলায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবং FIR রুজু হয়েছে মোট নয়টি।