আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দুর্গাপুজোর (Durga Puja) আনন্দের মাঝেও অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন রাজ্যের বহু মহিলা। কারণ রাজ্য সরকারের (Government of West Bengal) এই অনুদান বর্তমানে বহু মহিলার জীবনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারও আবেদন এখনও ‘Under Process’, আবার কেউ অনুমোদনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। পুজোর আগে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক ৩,০০০ টাকা ঢুকবে কি না, তা নিয়েও বাড়ছে কৌতূহল। কিন্তু আবেদন জমা দেওয়ার পর ঠিক কত দিনে ‘Under Process’ থেকে ‘Approved’ হয়? পুজোর আগে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা কতটা? এই প্রশ্নগুলির উত্তর জানতে আবেদনকারীদের নজর এখন প্রশাসনিক যাচাই এবং সরকারি আপডেটের দিকে।
কী কী বিষয় নজরে রাখবেন?
অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পে আবেদন অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি ধাপ গুরুত্বপূর্ণ। অনুমোদন পেতে গেলে আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য, প্রয়োজনীয় নথি, যোগ্যতা এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ নির্ভুল হতে হবে। কোনও তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে বা নথির সঙ্গে আবেদনের তথ্যের অমিল দেখা দিলে প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে দেরি হতে পারে কোন কোন ক্ষেত্রে আবেদন বাতিল পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তবে সবার আবেদন একই সময়ে অনুমোদিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ‘Under Process’ থেকে ‘Approved’ হতে ঠিক কত দিন লাগবে, তার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
দুর্গাপুজোর আগে টাকা পাওয়ার বিষয়টিও আপনার হাতে নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাঁদের আবেদন যাচাই সম্পূর্ণ হয়ে ইতিমধ্যেই অনুমোদন পেয়েছে, তাঁদের পুজোর আগে টাকা ঢোকার সম্ভাবনা প্রবল। তবে আবেদন এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে থাকলে নির্দিষ্টভাবে ওই দিনই টাকা ঢুকবে, এমনটা বলা সম্ভব নয়। আবেদন অনুমোদিত হওয়া এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়া এক বিষয় নয়। অনুমোদনের পরেও টাকা না এলে পেমেন্টের অবস্থা আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন।
‘Under Process’ দেখালে কী করবেন?
আবেদনের স্ট্যাটাসে ‘Under Process’ লেখা থাকলে তার অর্থ সাধারণত যাচাই বা প্রক্রিয়াকরণ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এই অবস্থায় তাড়াহুড়ো করে নতুন করে আবেদন না করে প্রথমে নিজের আবেদনের বর্তমান পরিস্থিতি জেনে নেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট সরকারি পোর্টালে স্ট্যাটাস দেখার সুবিধা থাকলে আবেদন নম্বর বা রেজিস্টার করা মোবাইল নম্বরের সাহায্যে তা যাচাই করা যেতে পারে। অনলাইনে তথ্য পাওয়া না গেলে স্থানীয় প্রশাসনিক দফতর, ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (BDO) অফিস অথবা সংশ্লিষ্ট পুরসভায় যোগাযোগ করে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে।
অনেকেই অফলাইনে আবেদন জমা করার পর টাকা পেতে দেরি হচ্ছে দেখে আবার অনলাইনে আবেদন করে বসেন। এমনটা করবেন না। দুইবার একই ব্যক্তির নথি আপলোড করা হলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হবে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে তা বাতিল অবধি হয়ে যেতে পারে।
‘Approved’ দেখিয়েও টাকা না ঢুকলে কী করবেন?
আবেদন অনুমোদিত দেখানোর পরেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা না এলে কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে খতিয়ে দেখুন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য ঠিক রয়েছে কি না, আধারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংযোগে কোনও সমস্যা রয়েছে কি না এবং পেমেন্টের ক্ষেত্রে কোনও বাধা তৈরি হয়েছে কি না,। ব্যাঙ্কের লেনদেনের বিবরণ বা পাসবুকও মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। সমস্যা থেকে গেলে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরে যোগাযোগ করাই ভালো। যত তাড়াতাড়ি সমস্যার গোড়ায় পৌঁছবেন তত তাড়াতাড়ি সমাধান মিলবে।
অন্যদিকে, আবেদন বাতিল হয়ে থাকলে হতাশ না হয়ে প্রথমে তার কারণ জানার চেষ্টা করুন। কোনও তথ্যের ভুল বা নথিপত্রের অসঙ্গতি থাকলে সংশ্লিষ্ট দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখতে গিয়ে অপরিচিত ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া বা কাউকে ওটিপি ও ব্যাঙ্কের গোপন তথ্য জানানো থেকেও সতর্ক থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: ‘ফারাক্কা বাঁধ ভেঙে দিলেই হবে সব সমস্যার সমাধান’ দাবি বাংলাদেশের!
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আগে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার আশা থাকলেও ‘Under Process’ থেকে ‘Approved’ হতে ঠিক কত দিন লাগবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তাই শুধু স্ট্যাটাসের পরিবর্তনের অপেক্ষায় না থেকে আবেদনের তথ্য, নথিপত্র এবং ব্যাঙ্কের বিবরণ ঠিক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। পুজোর আগে টাকা পৌঁছবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে সরকারি ঘোষণা এবং নিজের পেমেন্ট স্ট্যাটাসের দিকেই নজর রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।










