প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ছবির জের, শ্রীলেখার বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপের পথে পুলিশ?

Published:

Sreelekha Mitra

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে দিল্লির পাশাপাশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল কলকাতার রাজপথ। ধর্মতলায় মিছিলকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক এবং পুলিশের উপরেও করা হয় হামলা। তবে সেই প্রতিবাদ মিছিলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি কুরুচিকর ছবি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের (Sreelekha Mitra) বিরুদ্ধে। এমনকি সেই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে প্রথমে আনন্দপুর থানায় এফআইআর লেখান বিজেপির মুখপাত্র কেয়া ঘোষ। এর পাশাপাশি বিজেপির অন্যান্য কর্মী সমর্থকরা বিভিন্ন থানায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তবে এবার ফের নতুন করে শ্রীলেখার বিরুদ্ধে অভিযোগ।

শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কুরুচিকর ছবি প্রদর্শন করে শ্রীলেখা মিত্র পরে দাবি করেন যে, তিনি ইচ্ছা করে ওই ছবি দেখাননি। দিল্লি থেকে ছবিগুলি এসেছিল। তাঁর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি প্রদর্শন করেছিলেন। এমনকি তিনি আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত বলেও ভিডিও বার্তায় জানান। তবে এবার সেই পোস্টার বিতর্কে কলকাতার মুচিপাড়া থানায় দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হল। মালদার হাবিবপুর এলাকার শ্রীরামপুরের এক যুবকের দাবি, কলকাতার মিছিলে শ্রীলেখা মিত্র থেকে শুরু করে আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আপত্তিকর ছবি প্রদর্শন করেছিল। ইচ্ছাকৃতভাবেই তারা প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করেছিল।

এমনকি তাঁর আরও অভিযোগ, এই ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে আন্দোলনের শান্তিভঙ্গে ইন্ধন জুগিয়েছিল শ্রীলেখা মিত্ররা। ওই ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্যুতের গতিতে ভাইরাল হয়। এটি প্রধানমন্ত্রী তথা গোটা দেশবাসীর জন্যই অপমান। সেই কারণে তিনি শ্রীলেখা মিত্র এবং বাকিদের বিরুদ্ধেই এবার অভিযোগ লিখিয়েছেন। পাশাপাশি মালদার আরেক বাসিন্দা শ্রীলেখা মিত্র এবং বাম ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে মালদার বামনঘাটা থানায় অভিযোগ লিখিয়েছেন। তবে সেই এফআইআর-দুটি পাঠানো হয়েছে মুচিপাড়া থানায়। কারণ, শিয়ালদা স্টেশনের বাইরের অংশ মুচিখানা থানার আওতায় পড়ে।

আরও পড়ুন: এবার NCPI-তে রাজীব কুমার? কাকলীদের সাথে এক টেবিলে তৃণমূল সাংসদ

ইতিমধ্যেই পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলেই খবর। এমনকি শ্রীলেখা মিত্রকে তলব করা হতে পারে বলেও জানাচ্ছে বেশ কিছু সূত্র। যদিও শ্রীলেখা মিত্র মুখ খুলে জানান, আমি যতই বিজেপি কিংবা মোদী বিরোধী হই না কেন, আমাকে কেউ দেশদ্রোহী ব্যাখ্যা দিলে সেটা ঠিক ততটাই হাস্যকর। কারণ, আমি ওই ছবিগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রদর্শন করিনি। আমার পেটে কিছুটা হলেও শিক্ষা রয়েছে। আমি আইনি লড়াই লড়ব। আমি যে দলটা করি সেই দল আমার পাশে রয়েছে। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, আমি কোনক্রমে পোস্টারটি তুলেছিলাম। ঘুরিয়ে দেখেনি সেখানে মোদীজীর কেমন ছবি রয়েছে।”