সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দেমাতরম সংগীত পরিবেশিত হয়েছে আজ যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে (Jadavpur University)। মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে যোগ দিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। তবে দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে এবার রাজ্যপালের কাছে তদন্তের দাবি জানাল যাদবপুরের অখিল ভারত রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ। তাদের দাবি, ক্যাম্পাসের ভিতরে এমন কিছু পোস্টার বা স্লোগান সাঁটানো রয়েছে, যেগুলি দেশবিরোধী।
দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা পর্যন্ত তোলা হয় না। ওখানে দেশবিরোধী কার্যকলাপ চলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে এবং বাইরে রাষ্ট্রবাদ প্রতিষ্ঠা করবই। সবাইকেই বন্দেমাতরম গাইতে হবে।” তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েই আজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে যাদবপুর থানা পর্যন্ত জাতীয় পতাকা হাতে যোগদান করেন হাজার হাজার মানুষ। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে জানান, “কমিউনিস্টরা এখানে এমন একটা মানসিকতা তৈরি করেছিল, যেখানে স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস, বাঙালিদের ঐতিহ্য বিচ্যুতি হচ্ছিল। পরবর্তী সময়ে আবার জামাতিরা পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছে। তাদের কাছে উর্দুকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান করা ছিল এজেন্ডা।”
তবে অখিল ভারত রাষ্ট্রীয় মহাসংঘের তরফ থেকে আজ লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেই খবর। এমনকি কর্ম সমিতি ভেঙে দেওয়া বা নতুন করে গঠনের পাশাপাশি রেজিস্ট্রার এবং ফিন্যান্স অফিসারের অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে। এ বিষয়ে শাখার সম্পাদক ভাস্কর সরকার জানান, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেওয়ালে কিছু স্লোগান রয়েছে, যা দেশবিরোধী। আচার্যের কাছে দাবি করা হয়েছে, ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে এ বিষয়ে তদন্ত করা হোক।
আরও পড়ুন: “১৫ বছর জামাতিরা পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছে” যাদবপুরের মঞ্চ থেকে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী
এছাড়া দিন কয়েক আগে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এসএফআই এবং এবিভিপি-র সংঘর্ষে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে বলেও দাবি ওই সংস্থার। সেই সূত্রে পুলিশ আউটপোস্ট বা পুলিশ ক্যাম্প করার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই সমস্ত ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি হচ্ছে। এমনকি মদ বা মাদকের মতো ক্ষতিকারক নেশাজাত দ্রব্য ক্যাম্পাসের ভিতরে ঢোকে বলেও অভিযোগ। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনও সুরাহা মেলেনি। তাই শেষমেশ রাজ্যপালের দ্বারস্থ হওয়া।










