“১৫ বছর জামাতিরা পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছে” যাদবপুরের মঞ্চ থেকে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

Published:

Suvendu Adhikari

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গবাসীর মধ্যে দেশপ্রেম জাগাতে যাদবপুরে আজ ১০ হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ কর্মসূচির আয়োজন করে বিজেপি সরকার। পশ্চিমবঙ্গে এই দৃশ্য প্রথম। যাদবপুরের ছাত্র সংঘর্ষের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই কর্মসূচির ঘোষণা করেছিলেন। সেই সূত্রেই আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ দু’ধারে জাতীয় পতাকা হাতে অংশগ্রহণ করেন। এমনকি বিজেপি, এবিভিপি সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও অংশগ্রহণ করে এই কর্মসূচিতে।

যাদবপুরে ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম

দিন কয়েক আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই এবং বিজেপির সংগঠন এবিভিপি-র মধ্যে চরম সংঘর্ষ বাঁধে। এমনকি বেশ কয়েকজন ছাত্র আহতও হন। এ নিয়ে বিরোধীদের আঙুল বিজেপির দিকেই ওঠে। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে এবং বাইরে রাষ্ট্রবাদ প্রতিষ্ঠা করবই। সবাইকেই বন্দেমাতরম সংগীত গাইতে হবে।” শুক্রবার বিকালে ডাক দেওয়া এই কর্মসূচিতেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গলা মিলিয়ে জাতীয় স্তোত্রের ছ’টি স্তবক গেয়ে অনুষ্ঠানে সামিল হন মানুষজন। এমনকি প্রত্যেকের হাতেই থাকে জাতীয় পতাকা।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম গাইতে দেওয়া হয় না। ওখানে জাতীয় পতাকা ওঠে না। দেশদ্রোহী কার্যকলাপের আঁতুড় ঘর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ডে ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম গাওয়ার ডাক দেন। সেই মতোই আজ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রাজনৈতিক স্লোগান তুলে তিনি চ্যালেঞ্জ করে জানান, “ফ্রি প্যালেস্টাইন কেন, লিখুন ফ্রি পিওকে, লিখুন পাক অধিকৃত কাশ্মীর চাই।”

আরও পড়ুন: কাঁকিনাড়া স্টেশনের কাছে উল্টে গেল ট্রেন! ফের বাংলায় রেল দুর্ঘটনা?

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “কমিউনিস্টরা এই জায়গায় এমন এক মানসিকতা তৈরি করেছিল, যেখানে স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস, দেশপ্রেম, সনাতন সংস্কৃতি, বাঙালিদের পরম্পরা, আমাদের ঋষিমুনীদের পরম্পরা থেকে বিচ্যুতি ঘটিয়েছিল। তার পরবর্তী সময়ে জামাতিরা পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছে। ১৫ বছর। তাদের কাছে উর্দুকে দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দান করাই ছিল এজেন্ডা। তাদের কাছে কখনওই রাষ্ট্রবাদকে স্থাপন করা এজেন্ডার মধ্যে ছিল না। আমরা দেখেছি বিগত দিনে ভারত সরকারের রাষ্ট্রমন্ত্রী আক্রান্ত হয়েছেন…. তৃণমূল কংগ্রেস মাওবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলত। আর এরা ডিভিডেন্ড দিত, নির্বাচন এলে ‘নো ভোট টু বিজেপি’। ‘নো ভোট টু নরেন্দ্র মোদী’। এটাই তো ওদের কাজ।”