৩ সপ্তাহের মধ্যেই শেষ করতে হবে তদন্ত, আরজি কর মামলায় সিবিআই-কে নির্দেশ হাইকোর্টের

Published:

RG Kar Case

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আরজি কর মামলার (RG Kar Case) শুনানিতে নয়া মোড়। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিতেই গতি বাড়িয়েছে সিবিআই। তবে সেই ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় সিবিআই-র নতুন তদন্তকারী দলকে এবার মাত্র তিন সপ্তাহ সময় বেঁধে দিল রাজ্যের উচ্চ আদালত। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ আজ স্পষ্ট জানিয়েছে, তিন সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে সিবিআই-কে।

সিবিআই-কে তিন সপ্তাহের ডেডলাইন

২০২৪-র আগস্ট মাসে আরজি কর হাসপাতালের চেস্ট মেডিসিন বিভাগের ডাক্তারি পড়ুয়ার নৃশংস ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় প্রথমে তদন্তের দায়ভার গ্রহণ করে কলকাতা পুলিশ। সেখানে সঞ্জয় রায়কে প্রধান দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে তদন্তের দায়িত্ব সিবিআই-র হাতে গেলেও আলিপুর আদালত সঞ্জয়কে মূল দোষী হিসেবে চিহ্নিত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এমনকি চার্জশিটে শুধুমাত্র সঞ্জয়ের নামই উল্লেখ করা হয়। তবে পুলিশ বা সিবিআই-র তদন্তে অসন্তুষ্ট ছিল নির্যাতিতার পরিবার। সেই সূত্রে তারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে আদালত কেন্দ্রীয় সংস্থাকে বিশেষ দল গঠন করতে বলে।

আজ অর্থাৎ শুক্রবার এই মামলার শুনানি ছিল হাইকোর্টে। সেখানে কেন্দ্রীয় সংস্থার নতুন দল তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিয়েছে বলেই খবর। তবে নির্যাতিতার পরিবারের তরফ থেকে এই মামলায় মোট ৫৪টি বিষয়ে খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়। আদালতে সিবিআই জানিয়েছে, তারা ১৬টি বিষয় পর্যবেক্ষণ করেছে। এমনকি দ্বিতীয় দফার তদন্তে কোন কোন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে, তা আদালতে রিপোর্ট আকারে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও খবর।

আরও পড়ুন: ফের হাইকোর্টে ধাক্কা অভিষেককে! বিলবোর্ড মামলায় মাথায় হাত কালীঘাট তৃণমূলের

ঘটনার দিন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য এক ডেলিভারি বয় খাবার এনে দিয়েছিল। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিআই। এর পাশাপাশি, ঐদিন রাতে কর্মরত যে চার চিকিৎসক নির্যাতিতার সঙ্গে বসে খাবার খেয়েছিলেন, তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যেই বাকি তদন্তের কাজ শেষ করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। যদিও সিবিআই চার সপ্তাহ সময় চেয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্ট সেই দাবি মানেনি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ফের এই মামলার শুনানি হবে।