১১ কিউসেক জল ছেড়েছে ফারাক্কা, ভয়ঙ্কর ভাবে বাড়ছে জলস্তর, বন্যার আশঙ্কায় মাইকিং

Published:

Farakka Barrage

অনন্যা সরকার, মুর্শিদাবাদ: ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল (Nepal Flash Flood)। তাঁর প্রভাব এখন সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গার নিম্ন অববাহিকা পড়তে শুরু করেছে। দ্রুত বাড়ছে গঙ্গার জলস্তর। বিপদসীমার ওপর দিয়ে জল বয়ার কারণে এবার ফারাক্কা থেকে শুরু করে শামসেরগঞ্জ,জলঙ্গী, লালগোলা, সুতি ও জিয়াগঞ্জ সহ বিস্তীর্ণ নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই জল ছাড়া হয়েছে ফারাক্কা বাঁধ (Farakka Barrage) থেকে। এলাকায় এলাকায় প্রশাসনের তরফে মাইকিং করে সতর্কবার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে গঙ্গার জলস্তর

বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন (CWC) জানিয়েছে যে, ফারাক্কায় গঙ্গার বিপদসীমা হল ২২.২৫ মিটার, কিন্তু জলস্তর ইতিমধ্যেই ২২.৭৭ মিটারে পৌঁছে গেছে। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন যে, পাটনা ফোরকাস্ট স্টেশনের হিসাব অনুযায়ী নেপালের তরাই অঞ্চল থেকে গণ্ডক নদী দিয়ে জল ফারাক্কার দিকে ধেয়ে আসছে এবং পাটনায় এসে সেই জল গঙ্গার সাথে মিশছে। এর ফলে, শুক্রবার রাত ৮টার মধ্যে জলস্তর ২২.৮৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। যদিও এই এলাকাটি এখনও প্লাবিত হয়নি, তবে নিয়মিত বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে জেলা ও রাজ্য প্রশাসনকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত রাখা হচ্ছে।

আপস্ট্রিম থেকে ধেয়ে আসা জলের প্রবাহ সামাল দিতে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল ফিডার ক্যানেলের মাধ্যমে অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং প্রায় ১১ লাখ কিউসেক জল ব্যারাজের গেট দিয়ে ভাটির দিকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ জল এভাবে ছাড়ার ফলে ভাটি এলাকাগুলোতে প্লাবনের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। 

আরও পড়ুন: ফের হাইকোর্টে ধাক্কা অভিষেককে! বিলবোর্ড মামলায় মাথায় হাত কালীঘাট তৃণমূলের

এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য উচ্চপর্যায়ের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। ফারাক্কার ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (BDO) সুজয় ব্যাপারী জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য জেলা ও ব্লক স্তরে একাধিক টিম সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং নদীপারের বাসিন্দাদের মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করা হচ্ছে। বারংবার এই বার্তাই দেওয়া হচ্ছে যে, রাতে গঙ্গায় জীবিকা নির্বাহের জন্য মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবী বা গঙ্গা পারাপার করেন এমন ব্যক্তি ও মাঝি এবং তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা যেন সতর্ক থাকেন। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই ফারাক্কার গঙ্গার পাড়ের বাসিন্দাদের বন্যার আশঙ্কায় রাতের ঘুম উড়েছে।

google button