অবৈধ বদলির অভিযোগ! আরামবাগের স্কুলের প্রধান শিক্ষককে নিয়ে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের

Published:

Arambagh

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে যেখানে নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে, সেখানে আরামবাগের (Arambagh) প্রধান শিক্ষককে পুরনো স্কুলে ফেরার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাঁকে পুরনো স্কুলে (Headmaster Transfer Case) যোগ দিতে হবে বলে নির্দেশে দেওয়া হয়েছে উচ্চ আদালতের তরফে। পাশাপাশি, আরামবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নতুন করে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে শিক্ষামহলে।

বদলি অবৈধ বলে উঠছে অভিযোগ

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পুরশুড়া হাইস্কুল থেকে আরামবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে এসেছিলেন প্রধান শিক্ষক বিকাশচন্দ্র রায়। কিন্তু ওই বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন উঠতে থাকে, এমনকি বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে মামলাও করা হয়। মামলাকারী পূর্ব বর্ধমানের রায়না স্বামী ভোলানন্দ বিদ্যায়তনের প্রধান শিক্ষক কোরবান খান দাবি করেছিলেন যে, আরামবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলির জন্য আগে আবেদন করেছিলেন। দীর্ঘদিন চলা আইনি প্রক্রিয়ার পর এবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন আপডেট প্রকাশ্যে এল। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল যে বিকাশচন্দ্র রায়ের বদলি সংক্রান্ত যে সুপারিশ ও নির্দেশ জারি করা হয়েছিল, তা নিয়ম মেনে করা হয়নি।

বিশেষ নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি মহম্মদ শবর রসিদী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ২০২১ সালের বিকাশচন্দ্র রায়ের বদলির জন্য যে সুপারিশ করা হয়েছিল, তা নিয়ম মেনে হয়নি। তাই তাঁকে পূর্বের কর্মস্থল পুরশুড়া হাইস্কুলে ফেরত পাঠানো হবে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাঁকে পুরনো স্কুলে যোগ দিতে হবে বলে নির্দেশে জানানো হয়েছে। এবং পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে আরামবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে কোরবান খানের নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশপত্র ও নিয়োগপত্র জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও বলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ প্রসঙ্গে বিকাশচন্দ্র রায় জানান, বদলি সংক্রান্ত ঘটনায় তাঁর ব্যক্তিগত কোনও ভুল বা দায় নেই। তিনি এও জানান যে, তাঁর কর্ম জীবনের আর মাত্র ২ মাস বাকি তারপরেই অবসর।

আরও পড়ুন: টাকা দিলেই ভালো স্কুলে শিক্ষক বদলির টোপ! প্রতারণা এড়াতে সতর্কমূলক বার্তা SSC-র

আদালতের রায় নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আরামবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিকাশচন্দ্র রায়। তিনি অনিয়মের দায় অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমার কোনও ত্রুটি বা দায় নেই। ভুল করে থাকলে দফতরই করেছে।” এদিকে হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এখন দেখার হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর আরামবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে কীভাবে পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগোয়।