আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পূর্ব মেদিনীপুরের (Purba Midnapore) চণ্ডীপুর ব্লকের চৌখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের বুরুন্দা গ্রামে আবাস যোজনার (Awas Yojana) সার্ভে ঘিরে ১০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে এক বিজেপি (BJP) নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক বাসিন্দার কাছ থেকে ওই টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে আবাসের তালিকায় নিজের পরিবারের নাম না থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম প্রামাণিক। তাঁর দাবি, সার্ভের সময় গোপনে করা ভিডিও প্রশাসনের কাছে পাঠানোর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর বিডিওর হস্তক্ষেপে ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
পঞ্চায়েত অফিসে টাকা ফেরত
ঘটনাটি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তমলুকের মহকুমা শাসক মানসকুমার পাণ্ডা। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী, ভিডিওটি চণ্ডীপুরের বিডিওকে পাঠিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। চণ্ডীপুরের বিডিও রামকুমার মণ্ডলও জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর চৌখালি পঞ্চায়েত অফিসে কালোবরণ মণ্ডল ও উত্তম প্রামাণিককে ডাকা হয়। পঞ্চায়েত প্রধান মুসরেমিন বিবি-সহ কয়েকজনের উপস্থিতিতে কালোবরণ উত্তমকে ১০ হাজার টাকা ফেরত দেন। একই সঙ্গে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমাও চান বলে জানা গিয়েছে।
উত্তমের দাবি, তাঁর কাঁচা বাড়িতে আবাস যোজনার সার্ভে করতে গত আগস্টে গিয়েছিলেন পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট সঞ্জয় দাস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ওই বুথের বিজেপির বিএলএ-২ কালোবরণ মণ্ডল। উত্তমের বক্তব্য অনুযায়ী, সার্ভের সময় তাঁর স্ত্রী তপতী কালোবরণের হাতে ১০ হাজার টাকা দেন। পরে আবাসের তালিকায় তপতীর নাম না থাকায় তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, এলাকায় কয়েকজন আবাস প্রকল্পে একাধিকবার সুবিধা পেলেও তিনি প্রাপ্য হওয়া সত্ত্বেও বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর পাঠানো ভিডিওতে টাকা দেওয়ার দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: “আমাকে খুনের চেষ্টা চলছে” উত্তরপাড়ার পর এবার বেলেঘাটায় আক্রান্ত কুণাল ঘোষ
উত্তমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কালোবরণ মণ্ডল বলেন, টাকা নেওয়া তাঁর ভুল হয়েছিল এবং তিনি সেই টাকা ফেরত দিয়েছেন। অন্যদিকে পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট সঞ্জয় দাসের দাবি, তিনি সার্ভের কাজে গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু টাকা দেওয়া বা নেওয়ার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। এদিকে বিডিও ও জয়েন্ট বিডিও উত্তম প্রামাণিকের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন এবং আবাস প্রকল্পে তাঁর বাড়ি তৈরির টাকা অনুমোদনের বিষয়ে আশ্বাস দেন।










