প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশের মত কলেজে হিজাব বিতর্কের (Burqa Controversy) পর এবার ছাত্রীদের বোরখা পরা নিয়ে উত্তেজনা ছড়াল বারাসত কলেজে (Barasat College)। বোরখা পড়ে আসা যাবে না বলে স্পষ্ট নিদান দিল বজরং দল। তুমুল হইচই পড়ে গেল কলেজ প্রাঙ্গণে।
বোরখা বিতর্ক বারাসতের কলেজে
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, বারাসতের কলেজে পড়ুয়াদের নির্দিষ্ট পোশাকবিধি নেই। এমনকি মুসলিম সম্প্রদায়ের মেয়েরাও বোরখা পরে আসত, এতেও এতদিন কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনো অসুবিধা ছিল না, কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যের পালা বদলের পর শুরু হল তুমুল উত্তেজনা। বজরং দলের এক কর্মীকে বলতে শোনা যায়, “বোরখা পরে কলেজে আসা যাবে না, এটা কোনও মাদ্রাসা নয়।” ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁরা। এবং সেখানেই তাঁদের দাবি পেশ করে।
স্পষ্ট দাবি বজরং দলের
জানা গিয়েছে, বজরং দল দাবি করছে যে, প্রত্যেক ধর্মের আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। কিন্তু স্কুল, কলেজ সকলের কাছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে ধর্ম কাউকে আলাদা করতে পারে না। আজ যদি কোনো হিন্দু সম্প্রদায়ের ছেলে গলায় গেরুয়া বস্ত্র দিয়ে আসে, তাহলে মুসলিম সম্প্রদায়ের মেয়েরাও বোরখা পরে আসত পারে। কিন্তু সেই ছেলেটা যদি গেরুয়া বস্ত্র না পরে তাহলে ওই মেয়েটারও বোরখা পরে থাকার কোনো মানে হয় না। নিয়ম সকলের জন্য সমান থেকে জরুরি। কোনো ধর্মের জন্য আলাদা করে কিছু করা উচিত নয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। এই বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।
আরও পড়ুন: ‘২৯ জুন থেকে ৩রা জুলাই…’ বাংলার শিক্ষকদের জন্য ফের গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি সরকারের
ইতিমধ্যেই বজরং দলের সেই ভিডিয়ো বেশ ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কলেজে কারও পোশাক নিয়ে ফতোয়া জারি করা নিয়ে আতঙ্ক এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কয়েকদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক ছাত্রী তাঁদের অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে কলেজে এসেছেন। এক অভিভাবক জানিয়েছেন, “আগে এমন পরিস্থিতি ছিল না, এখন সরকার বদলে গিয়ে নতুন নতুন নিয়ম আসছে। এভাবে কারও পোশাক নিয়ে ফতোয়া জারি করা মেনে নেওয়া যায় না।”










