অনন্যা সরকার, বীরভূম: সম্প্রতি নেপালের বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যার পরের মর্মান্তিক দৃশ্য বহু সংবেদনশীল মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলছে। অসহায় ব্যক্তিদের আর্তনাদ, প্রিয়জনকে খুঁজে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা ও আপনজনকে হারানোর বেদনাদায়ক দৃশ্যগুলি সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা বীরভূমের কিরানাহারের দশম শ্রেণীর ছাত্র ফাইজুল শেখকে একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অনুপ্রাণিত করে। ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ব্যবহার করে দুর্যোগের সময় আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করার জন্য একটি বিশেষ যন্ত্র (Rescue Device) তৈরি করেছে এই কিশোর।
কীভাবে কাজ করে ফাইজুল শেখের এই যন্ত্র?
কিরানাহারের মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা ফাইজুল একটি বেসরকারি স্কুলে দশম শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা ফিরোজ শেখ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ও তার মায়ের নাম আবিরা খাতুন। ফাইজুল ছোটবেলা থেকেই যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভালোবাসে। নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের পর, সে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া মানুষদের কীভাবে দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করে। তখনই তার মাথায় আসে এই যন্ত্রটির আইডিয়া।
ফাইজুল তার এই সিস্টেমটির নাম দিয়েছে ‘বিকেন্দ্রীভূত তারবিহীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সরবরাহ নেটওয়ার্ক’। তার উদ্ভাবিত ব্যবস্থাটি তিনটি পৃথক উপাদানের সমন্বয়ে কাজ করে, এগুলি হল – একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ইউনিট, চালকবিহীন যানের সাথে সংযুক্ত একটি সিগন্যাল রিসিভার এবং বিপদে পড়া ব্যক্তির কাছে থাকা একটি সিগন্যাল ট্রান্সমিটার। এছাড়াও এই সিস্টেমে মাইক্রো-কন্ট্রোলার, বিভিন্ন সার্কিট, তার, আলোকসংকেত ও শব্দসংকেতের জন্য একটি যন্ত্র এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ফাইজুল শেখের তৈরি এই সিস্টেমটি আটকে পড়া মানুষের অবস্থান চিহ্নিত করা ছাড়াও, উদ্ধারকারী দলের অবস্থান ও তাঁদের পৌঁছানোর আনুমানিক সময়, উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি ও প্রয়োজনে চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের মতো তথ্য আদান-প্রদানে সহায়তা করে। দশম শ্রেণির পড়ুয়া ফাইজুল জানায় যে, দুর্যোগের সময় ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়া মানুষের সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করা ও তাদেরকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে সহায়তা করাই তার লক্ষ্য। ভবিষ্যতে সে এই প্রযুক্তিকে স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ এবং হেলমেটের সাথে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।










