এবার টার্গেট কলকাতা পুরসভা, শীঘ্রই ভোট চায় গেরুয়া শিবির

Published:

Municipal Election

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অবশেষে বঙ্গের রাজনীতিতে ২০০ পার করল বিজেপি। প্রথমবার শ্যামাপ্রসাদের বাংলায় সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। বহু বিতর্ক এবং লড়াইয়ের শেষে অঙ্গ-কলিঙ্গের পর বঙ্গে পদ্মের পথচলা শুরু হতে চলেছে। ১৫ বছরের জোড়াফুলের (Trinamool Congress) মহাপতনে গেরুয়া আবির নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে ঘরে ঘরে। এমতাবস্থায় খবরের শিরোনামে উঠে এল কলকাতার পুরনির্বাচন (Municipal Election)। ১০০-র বেশি ওয়ার্ডে এগিয়ে দ্রুত পুরভোট চাইছে পদ্মশিবির।

মোদি ও শাহের প্রতি আস্থাতেই ভোট!

রাজ্যে তৃণমূলের এই ব্যাপক হার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চা চলছে। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি বা জেলা নেতাদের দাবি, “ আসলে মানুষ তৃণমূলের শাসন থেকে মুক্তি চেয়েছে, তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় চেয়ে, প্রার্থী না দেখেই চোখ বন্ধ করে পদ্ম প্রতীকে বোতাম টিপেছেন।” রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের দাপুটে মেয়র পারিষদ ও বরো চেয়ারম্যানদের এক একজনের ওয়ার্ডে তিন থেকে পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে রয়েছে। আসলে পাড়ায় বিজেপি প্রার্থী প্রচারে না এলেও, টিভি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদি ও শাহের বক্তব্য শুনে সকলেই পদ্মপ্রতীকে আস্থা রেখেছে। ফলে পরাজিত ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আর তাতেই এবার পুরভোট নিয়ে চলছে এবার জোর আলোচনা।

পুরনির্বাচনের প্রস্তুতি

রাজ্যের শতাধিক ওয়ার্ডে তৃণমূলের পরাজয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূল কাউন্সিলরদের মনে প্রশ্ন জাগছে, আর কতদিন আমাদের পুরসভা বা পরিষেবার কাজ করতে দেবে বিজেপি সরকার? কারণ, অধিকাংশ ওয়ার্ডে তৃণমূলের অফিস, কার্যালয় রাতারাতি দখল করে নিয়েছে গেরুয়া শিবির। সেক্ষেত্রে যদি পুরভোট হয় তাহলে কলকাতা পুরসভাও গেরুয়া রঙে রঙিন হবে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, যে পুরভোট হলে অনেক তৃণমূল কাউন্সিলর পুরনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে রাজি হবেন না, কারণ তাঁদের ধারণা এখানেও তাঁদের হার হবেই। নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী এবছরের ডিসেম্বরেই কলকাতায় পুরভোট হওয়ার কথা। তবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজ্য সরকার চাইলে সময়ের আগেই পুরনির্বাচন করতে পারে।

আরও পড়ুন: অভিষেকের শান্তিনিকেতনে আর কড়া পাহারা নেই, পাততাড়ি গোটাচ্ছে নিরাপত্তারক্ষীরা

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন সেই নিয়ে বারংবার প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষ। জানা গিয়েছে, পরিষদীয় দলের নেতা কাকে করা হবে তা চূড়ান্ত করতে হবু বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করতে আজ কলকাতায় আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই কাজ্যের জন্য তাঁকে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে। আর সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিকে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে বাংলার জয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই দেখছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।