প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) যত এগিয়ে আসছে ততই বঙ্গে রাজনৈতিক হাওয়া গরম হয়ে উঠেছে। তার উপর নির্বাচন কমিশনের একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজকে কেন্দ্র করে তুমুল হইচই শুরু হয়েছে শাসক শিবিরে। এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি চেকিং নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee Car Search) বিস্ফোরক অভিযোগ তুলতেই মুখ খুললেন সিইও মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agarwal)। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনি তাদের কর্তব্য যথাযথ পালন করেছে।
কমিশনের হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ বিতর্ক
জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার তৃণমূলের তরফে একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। অভিযোগ সেই মেসেজে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রীর গাড়ি তল্লাশির নির্দেশ কমিশন দেয়। আর সেই মেসেজ ঘিরেই উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য-রাজনীতি। ইতিমধ্যেই লিখিত অভিযোগ করেছে তৃণমূল। অন্যদিকে এই বিষয়ে আইনের দ্বারস্থ হবেন বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি চেকিং নিয়ে জনসভা থেকে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ক্ষোভ প্রকাশ মমতার
গতকাল অর্থাৎ বুধবার, ইসলামপুরের জনসভা থেকেই নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “উত্তরবঙ্গ যাওয়ার পথে দমদম বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে কেন্দ্রীয় বাহিনী আমার গাড়ি চেক করার চেষ্টা করেছিল। আমি বলব, যদি দম থাকে তবে রোজ আমার গাড়ি চেক করুন, আমার কিছু যায় আসে না।” শুধু তাই নয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে একে ‘পক্ষপাতমূলক আচরণ’ বলেও অভিহিত করেছেন। কেন প্রধানমন্ত্রী কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িতে তল্লাশি হবে না, সে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এরপরই সেই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন সিইও মনোজ আগরওয়াল।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে কয়লা কাণ্ডে বাজেয়াপ্ত ১৫৯ কোটির সম্পত্তি, ইডির তদন্তে প্রভাবশালীর নাম
কী বললেন CEO মনোজ আগরওয়াল?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি চেকিং নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগের কয়েকঘণ্টার মধ্যে এই প্রসঙ্গে সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান, “আমার কাছে এমন কোনও খবর নেই, আমি তো শুনিনি যে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি সার্চ করা হয়েছে। যদি কোনও ভিভিআইপি গাড়ি সার্চ হয়, তাহলে আমাদের কাছে সেই খবর থাকবে। কিন্তু আমি তেমন কোনও খবর পাইনি। আজকে ডিজি, সিপি সবাই এসেছিলেন, যদি সার্চ হয়েও থাকে, তাহলে সেটা নিয়মের মধ্যেই পড়ে। কেন্দ্রীয় বাহিনি তাদের কর্তব্য পালন করেছে।” এছাড়াও নির্বাচন নিয়ে তিনি জানান, “যদি কেউ মনে করে বুথে ঢুকে অন্যের ভোট কেউ দিয়ে দেবে, সেটা আর হবে না।”










