সরকারি উদ্যোগে জয়নগরে তৈরি হয়েছে গোবর গ্যাসের প্লান্ট, এবার রান্না হবে নিখরচায়

Published:

Cow Dung Biogas

অনন্যা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গোয়ালঘর থেকে সংগ্রহ করা গোবর ব্যবহার করে রান্নার গ্যাস (Cow Dung Biogas) তৈরির একটি উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর-১ ব্লক প্রশাসন। তাদের তত্ত্বাবধানেই জাঙ্গালিয়া গ্রামে ইতিমধ্যেই দুটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়েছে। এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভিবি-জি রাম জি (VB-G RAM G) স্কিমের অধীনে বাস্তবায়িত একটি পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানি প্রকল্প। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে যে,  এই প্রকল্পটি যেমন গ্রামীণ পরিবারগুলোর জ্বালানি খরচ তলানিতে পৌঁছে দেবে, তেমনই বিকল্প শক্তির ব্যবহারকে উৎসাহিত করে রাজ্যের জন্য একটি অনন্য মডেল হয়ে উঠতে পারে।

জাঙ্গালিয়া গ্রামে তৈরি হল গোবর গ্যাসের প্ল্যান্ট

সাধারণত গোবর কৃষিকাজে সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে গোবর গ্যাস রান্নার কাজে ব্যবহার করার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। তবে পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের অভাবে এই প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার সেভাবে বাড়েনি। তবে এখন, গোবর থেকে গ্যাস উৎপাদনের একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রাম-কেন্দ্রিক প্রকল্প ভিবি-জি রাম জি যোজনার মাধ্যমে। প্রশাসন আশা রাখছে, এর ফলে কেবল রান্নার জ্বালানি বাবদ গৃহস্থের খরচই কমবে না, বরং বর্জ্য পদার্থ একটি মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরিত হবে এবং প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতাও অনেকটা কমবে।

জয়নগর-১ ব্লক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৭৩ জন কৃষককে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের একাধিক গবাদি পশু রয়েছে। পরিকল্পনাটি হলো, তাদের গবাদি পশুর গোবর ব্যবহার করে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টগুলো চালানো। চিহ্নিত ৭৩টি জায়গার মধ্যে বর্তমানে সাতটি জায়গায় কাজ চলছে। এছাড়া, জাঙ্গালিয়া গ্রামে দুটি প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে।

আরও পড়ুন: নেই কোনো ফুড লাইসেন্স! শিয়ালদায় রাজুদার পরোটার দোকানে হঠাৎ হানা খাদ্য সুরক্ষা দফতরের

জয়নগর-১-এর ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (BDO) জানিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এর উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ এলাকায় বিকল্প শক্তির উৎসের ব্যবহারকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। 

বিডিও আরও বলেন যে, ‘বিকশিত ভারত’ উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন এই বৃহত্তর কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে অন্যতম। এই উদ্যোগটি ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দাদের নজর কেড়েছে। তবে এর চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করবে কতগুলো প্ল্যান্ট পুরোপুরি কার্যকর হয়, গ্যাস উৎপাদনের ধারাবাহিকতা কেমন থাকে এবং সুবিধাভোগীদের কতটা আর্থিক সাশ্রয় হচ্ছে – তার ওপর।

যদি এই পরীক্ষামূলক মডেলটি সফল হয়, তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যান্য গ্রামীণ এলাকাতেও এই  উদ্যোগটি সম্প্রসারণ করা হতে পারে। যদিও এই উদ্যোগটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিকল্প শক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক, তবে গ্রামীণ বাংলার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়বে, তা দেখার বিষয়।

google button
TRENDING সবচেয়ে বেশি পড়া ← বাদিকে স্ক্রল করুন