মমতার নিরাপত্তা নিয়ে মিথ্যা বলছে তৃণমূল! পাল্টা বিবৃতি নবান্নর

Published:

Mamata Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্ষমতার পালাবদলে বিজেপি সরকার আসতেই বড় পদক্ষেপ! ২০ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রক্ষীদের এবার সরানো হল প্রশাসনের তরফে। তুমুল শোরগোল রাজনৈতিক মহলে। জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে তিন জন নতুন অপরিচিত নিরাপত্তাকর্মীকে নিয়োগ করা হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার খাতির। আর সেই নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন।

কী বলছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন?

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল বুধবার রাতে, তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ফেসবুক লাইভে অভিযোগ জানিয়েছেন যে, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গেটের সামনে কোনও নিরাপত্তারক্ষী নেই এবং যে কেউ চাইলে অনায়াসে ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী তথা অত্যন্ত বিশ্বস্ত দুই ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী স্বরূপ গোস্বামী ও কুসুম কুমার দ্বিবেদীকেও আচমকা তুলে নিয়েছে পুলিশ। সন্ধ্যা নাগাদ হঠাৎ করেই তিন জন অপরিচিত নিরাপত্তাকর্মীকে পাঠানো হয়।” সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর প্রশ্ন, “আচমকা কেন এই বদল করা হল? ভবানীপুরের নির্বাচন ফলাফল সংক্রান্ত মামলা করেছেন বলে? নাকি হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মিছিল করেছেন বলে?”

পাল্টা দাবি নবান্নের

সোশ্যাল মিডিয়ায় ডেরেক ও’ব্রায়েনের এই লাইভ ভিডিও ভাইরাল হতেই তুমুল শোরগোল শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। পরিস্থিতি যখন গুরুগম্ভীর তখন নবান্নর শীর্ষ কর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার যে দাবি করা হচ্ছে, তা মোটেও সত্যি নয়। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মেনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেড প্লাস নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। এবং তাঁর বাড়ির আশপাশে পর্যাপ্ত পুলিশি পাহাড়া রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে তাহলে কেন এমন অভিযোগ আসছে তৃণমূলের তরফে? এবার সেই তথ্যই পাওয়া গেল।

আরও পড়ুন: বড় বিপদ কালীঘাটে! তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘সিজ’ করার আবেদন অরূপ বিশ্বাসের

নবান্নের দাবি ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ ‘অনুরোধ’ ছিল স্বরূপ গোস্বামী ও কুসুম কুমার দ্বিবেদীকেই তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় রাখতে হবে। তাঁর, অন্য কোনও পুলিশকর্মীকে পছন্দ নয়। কিন্তু সরকারি ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে অফিসার বদল হয়, সেখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে অনুরোধ শোনার কোনও ব্যবস্থা প্রশাসনিক নিয়মে নেই। তাই এই বদল। যদিও ব্যক্তিগত পিএসও বদল হলেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সামগ্রিক ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তায় কোনও ত্রুটি বা খামতি রাখা হচ্ছে না।