প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সরকার বদল হলেও তোলাবাজির সমস্যা কিছুতেই মিটছে না। এমতাবস্থায় শমীক শুভেন্দুর পর ফের এই জটিল ইস্যু নিয়ে মুখ খুললেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। দলের একাংশের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পর এবার কাঠগড়ায় তুললেন পুলিশের একাংশকে (Police Extortion)। মন্ত্রীর অভিযোগ, ভিন্রাজ্য থেকে কৃষকদের জন্য আসা কৃষিযন্ত্র এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পশ্চিমবঙ্গে ঢোকাতে নাকি সীমান্তে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত তোলা দিতে হচ্ছে। আর সেই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হল মহা শোরগোল।
তোলাবাজি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন দিলীপ
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ বুধবার ‘বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে’ বিকশিত এগফুড টেক সামিটে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে তোলাবাজি নিয়ে সরব হন তিনি। কড়া ভাষায় দিলীপ বলেন, “সীমান্ত অঞ্চলে এখনও তোলাবাজির ব্যাধি অব্যাহত রয়েছে। বাংলা সীমান্তে নো এন্ট্রি বোর্ড লেগে গিয়েছে। তোলার টাকা না দিলে গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হবে না। যে কারণে কৃষকদের কাছে সার থেকে হারভেস্টিং মেশিন, সবকিছুই অনেক দেরিতে পৌঁছচ্ছে। রাজ্যের একাংশের যেন এই রোগ সারতেই চাইছে না। রীতিমত তোলাবাজির কারণে কৃষকরা জর্জরিত।”
কাঠগড়ায় তুললেন পুলিশের একাংশকে
দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, “খবর আসছে যে পেটের দায়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা তোলা দিয়ে মেশিন সীমান্ত থেকে নিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। আর পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে টাকা তুলছে। শুধু পুলিশ নয়, তোলাবাজি করার জন্য দালালরাও যথেষ্ট সক্রিয়। আর তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই মানুষ বিজেপিকে বেছে নিয়েছে। আর তাই সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রেখে ইতিমধ্যেই কারা কারা রাজ্য সীমান্তগুলিতে দাঁড়িয়ে তোলাবাজি করছে, তাদের প্রত্যেকটি চিহ্নিত করা হচ্ছে। মানুষের স্বার্থ যাঁরা বিপন্ন করবে, এই সরকার তাঁদের কোনওভাবেই ছাড় দেবে না।” একই সুর শোনা গিয়েছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মুখেও। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজ্যে কাটমানির সংস্কৃতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
আরও পড়ুন: হাইকোর্টের নির্দেশ মানতে আপত্তি, ধর্মীয় অবমাননার মামলায় সুপ্রিম কোর্টে মহুয়া
ইতিমধ্যেই দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে ৩০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রায় ২৫০ জন সদস্যকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাথমিক তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং তার ভিত্তিতেই নেওয়া হচ্ছে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ। আপাতত জেলা, মণ্ডল ও বুথ স্তরে এই নজরদারি চালানো হলেও আগামী দিনে শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে। কোনো দুর্নীতি হবে না বিজেপির আমলে।










