দুর্গাপুরে তৃণমূলের সময় বন্ধ কারখানা খোলে বিজেপি আমলে, তবুও শ্রমিক বিক্ষোভ

Published:

Durgapur

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পরিবর্তনের বাংলায় দেখা গেল অন্য চিত্র, সরকার বদলে গেলেও দুর্গাপুর (Durgapur) শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক অসন্তোষের জট কাটল না এখনও। তৃণমূল আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি বেসরকারি রড কারখানা পুনরায় চালু (Durgapur rod factory reopening) করা হলেও কাজে ফেরানো হল না পুরনো শ্রমিকদের। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই ব্যাপক শোরগোল শুরু হল এলাকা জুড়ে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ, শুক্রবার সকাল থেকে কারখানার গেট বন্ধ করে দিয়ে তুমুল বিক্ষোভ (Durgapur factory protest) দেখাল স্থানীয়রা।

কাজ হারিয়েছে ১৩০ জন শ্রমিক

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপুরে ইন্দো-আমেরিকান মোড় সংলগ্ন এলাকায় একটি বেসরকারি রড কারখানা রয়েছে। কিন্তু তৃণমূল সরকারের আমলে সেই কারখানার ১ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। রাতারাতি কর্মহীন হয়ে পড়েন প্রায় ১৩০ জন শ্রমিক। যদিও কর্তৃপক্ষ সেই সময় আশ্বাস দিয়েছিল যে, ভবিষ্যতে ইউনিটটি ফের চালু করা হবে এবং কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের ধাপে ধাপে কাজে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তবে তৃণমূল ক্ষমতায় না আসতে পারলেও বিজেপি সরকার আসতেই একের পর এক বন্ধ থাকা কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি এই বেসরকারি কারখানাও খোলা হয়েছে, কিন্তু সেই নিয়ে এবার উঠল অন্য অভিযোগ।

কারখানার গেট বন্ধ করে দিল বিক্ষোভকারীরা

জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের ইন্দো-আমেরিকান মোড় সংলগ্ন ওই বেসরকারি রড কারখানার ১ নম্বর ইউনিট খুলে দেওয়া হলেও কাজ হারানো শ্রমিকদের পুনরায় কাজে আর ফেরানো হল না। উল্টে বহিরাগতদের কাজে নিয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুললেন পুরাতন শ্রমিকরা। আর সেই নিয়ে তুমুল ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিক্ষোভকারীরা। আর তারই প্রতিবাদে আজ, শুক্রবার সকাল থেকে কারখানার গেট বন্ধ করে দিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই কারখানায় কাজ করেছিলেন এবং ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন, তাঁদের কর্তৃপক্ষ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা কেন কার্যকর করা হয়নি।

আরও পড়ুন: ‘বাবাকে সাপোর্ট করুন’, নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীর হয়ে ময়দানে মিলন প্রধানের ১৫ বছরের মেয়ে

প্রসঙ্গত, আজ সকাল থেকেই কারখানার মূল গেট বন্ধ করে দেওয়ায় বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয়রা। বিক্ষোভের জেরে কারখানায় কর্মী ও অন্যান্যদের যাতায়াতেও বাধা তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাস্তায় নানা যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে অসুবিধার মুখে পড়তে হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রতিবাদের পর কারখানা কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়। পাশাপাশি, কাজ হারানো ওই ১৩০ জন শ্রমিককে আদৌ কাজে ফিরিয়ে নেওয়া হবে কি না, সেটিও দেখার বিষয়।