প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ছাব্বিশের নির্বাচনী যুদ্ধে (West Bengal Election 2026) বঙ্গে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)। প্রচুর সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সর্বোচ্চ স্তরে রদবদল সবটাই করা হচ্ছে। বাইক র্যালি নিয়েও কড়াকড়ি করা হয়েছে। এমতাবস্থায় প্রথম দফা ভোটের আগে প্রার্থীদের (ECI Directs Restrictions On Candidates) গতিবিধি নিয়ে নয়া নির্দেশ জারি করল কমিশন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল ভোট শেষ না হলে নিজের এলাকা ছাড়তে পারবেন না কোনও দলের প্রার্থী।
প্রার্থীদের বিশেষ নির্দেশ কমিশনের
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোট চলাকালীন সকাল ৬টা থেকে নিজের বিধানসভা এলাকাতেই থাকতে হবে দলীয় প্রার্থীদের। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণভাবে হয় এবং গণতান্ত্রিক ভাবে মানুষ যেন তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে প্রত্যেক প্রার্থীকে। পাশাপাশি কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা বা গোলমালের মধ্যে জড়ানো যাবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ কমিশনের। ভোটের প্রার্থীদের জন্য এমনই গাইডলাইন প্রকাশ্যে আসায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট নিয়ে কড়াকড়ি
ছাব্বিশের নির্বাচনী যুদ্ধে একাধিক বেনজির পদক্ষেপ করছে নির্বাচন কমিশন। সাধারণত, প্রত্যেক নির্বাচনের আগেই ‘প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট’ বা সতর্কতামূলক গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত নির্দেশ আসে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে। তবে এবার সেই নিয়ম এখানে পরিবর্তন এসেছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগেই লকআপে পুরতে হবে দাগি দুষ্কৃতীদের। অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল যেখানে ভোট, সেখানে ১৯ তারিখ এবং যেখানে ২৯ এপ্রিল ভোট সেখানে ২৫ তারিখ রাতের মধ্যে ধরতে হবে দাগিদের। এখনও পর্যন্ত প্রথম দফার ভোটের আগে ৫০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট প্রকাশের দিনক্ষণ ঘোষণা করল সংসদ, কবে ফল প্রকাশ?
বিধানসভা নির্বাচনে কোনরকম যাতে বিশৃঙ্খলাময় পরিস্থিতি তৈরি না হয় তার জন্য প্রচুর সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ভোট সামলাতে কলকাতায় থাকছে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। অর্থাৎ ভোটের আগে ও ভোটের দিন শহরের প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্র তথা বুথ ও রাস্তায় থাকছে প্রায় ২২ হাজার আধা সামরিক বাহিনী। এছাড়াও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রায় ১০ হাজার পুলিশ নামছে রাস্তায়, ১৬০টি আরটি মোবাইল, ২২৯টি কুইক রেসপন্স টিম, ৮০টি হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড, ৩০৬টি অতিরিক্ত কুইক রেসপন্স টিম, ৫৭টি এসএসটি ও ৮০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকছে।










