জমি ঘিরে রহস্য, আনন্দপুরের আবাসন নিয়ে কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে চিঠি ED-র

Published:

Anandapur

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) নজরে এল আনন্দপুরের (Anandapur) একটি আবাসন প্রকল্প। অভিযোগ উঠে এসেছে যে জাল নথি ও জমির ভুয়ো মালিকানা দেখিয়ে নাকি প্রায় সাড়ে ৩ একর জমি কেনা হয়েছে। তাই তদন্তের মাধ্যমে সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সরাসরি চিঠি পাঠাল কলকাতার পুলিশ (Kolkata Police) কমিশনার অজয় নন্দকে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনীতির অন্দরমহলে। তবে কি পূর্বতন সরকারের আরও একটি দুর্নীতির কথা ফাঁস হতে চলেছে?

আপত্তি জানিয়েছিল ইঞ্জিনিয়াররা

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আনন্দপুরের প্রায় সাড়ে ৩ একর জমিতে তৈরি হওয়া এই আবাসন প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যদিও এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়ার আগে নাকি আপত্তি জানিয়েছিল কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির ইঞ্জিনিয়াররা, সেই সময় কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারপার্সন ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এই বিষয়ে KMDA-এর ইঞ্জিনিয়াররা প্রথমে একটি রিপোর্ট জমা দিয়ে বলেছিল যে এই রাস্তা আর চওড়া করা সম্ভব নয়। কিন্তু পরে দেখা যায় সেই রাস্তা চওড়া করার প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিয়েছে ইঞ্জিনিয়াররা। আর তাই নিয়েই উঠছে এবার একাধিক প্রশ্ন।

কমিশনারকে পাঠানো হয়েছে চিঠি

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে সরাসরি চিঠি পাঠিয়ে প্রশ্ন করেছে যে কে বা কারা এই রাস্তা চওড়া করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছিলেন তা তদন্ত করে দেখতে হবে। এছাড়াও চিঠিতে এও বলা হয়েছিল যে ইঞ্জিনিয়ারদের আপত্তি অগ্রাহ্য করে নাকি অতিরিক্ত প্রায় ৭০ হাজার বর্গফুট নির্মাণ করা হয়েছিল। তার বিনিময়ে ওই আবাসন প্রকল্প থেকে ডেভলপারদের প্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি লাভ হয়েছে। তাই সবটাই খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

আরও পড়ুন: আরও বিপাকে শওকত মোল্লা! ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় এবার যুক্ত হল UAPA ধারা

রাস্তা চওড়া করার অনুমোদনের পাশাপাশি এই আবাসন প্রকল্পের জাল নথি ও ভুয়ো মালিকানা নিয়েও একাধিক অভিযোগও উঠে এসেছে। সন্দেহ করা হচ্ছে কালো টাকার লেনদেন নিয়ে। তবে সবটাই এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান। উল্লেখ্য গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতায় বেআইনি নির্মাণ নিয়ে একাধিক বিতর্ক হয়েই চলেছে। অনুমোদিত প্ল্যান না থাকার সত্বেও একাধিক জায়গায় বেআইনি বিল্ডিং গুলি ঘিরে সরব হচ্ছে সরকার, আর এই অবস্থায় আনন্দপুরের একটি আবাসন প্রকল্প নিয়ে ED-র নজরদারি শুরু হতেই নড়েচড়ে বসল পুলিশ প্রশাসন।