প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নতুন সরকার (Government Of West Bengal) আসতেই রাজ্যে শিল্প ব্যবস্থায় (West Bengal Industrial Development) উন্নতিতে নয়া সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। জানা গিয়েছে, ৩৩ শিল্প ইউনিটকে জমি দিতে চলেছে রাজ্য সরকার। শুধু তাই নয়, সবমিলিয়ে প্রায় ৬৫ হাজার কর্মসংস্থানের (West Bengal Employment) আশা করা হচ্ছে, আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বঙ্গবাসীর মুখে ফুটেছে হাসি। উল্লেখ্য পূর্বতন সরকারের আমলে একের পর এক দুর্নীতির খবর উঠে এসেছিল, এবার সেই কলঙ্ক কাটাতে ময়দানে উঠে পড়ে নামল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
প্রায় ৭০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, বুধবার নবান্নে রাজ্যের শিল্পব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক চলেছিল দীর্ঘক্ষণ। বিভিন্ন কোম্পানিকে ৪৬৩.১৪ একর এবং ৬৩৯৭.২৩ বর্গফুট জমি সম্বলিত WBIDCL-এর আটটি শিল্পপার্কের ২৪টি শিল্প ইউনিটের জমি লিজ হোল্ড বন্টনের প্রস্তাবে শিলমোহর দেওয়া হয়। আশা করা যাচ্ছে এই সিদ্ধান্তের ফলে ৬২,৭১২ জনের কর্মসংস্থান হবে। শুধু তাই নয়, WBIDC-র চারটি শিল্পপার্কে ৯টি শিল্প ইউনিটের জন্য ৭৮.১৭৮৬ একর জমি দেওয়া হচ্ছে। সেখানেও আশা করা যাচ্ছে ৫,৮৭২ জনের কর্মসংস্থান হবে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৩৩টি শিল্প ইউনিটের মাধ্যমে ৬৮,৫৮৪ জনের কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চা পর্যটন ও আনুষাঙ্গিক ব্যবসা নীতির সংশোধন হবে
মন্ত্রিসভার বৈঠকে চা বাগানগুলিতে চা পর্যটন ও অন্যান্য ব্যবসায়িক কাজের জন্য ব্যবহারযোগ্য জমির পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, চা বাগানগুলির ১৫ শতাংশ জমি অন্যান্য ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা যাবে এবং সর্বোচ্চ সীমা ধার্য করা হবে ১৫০ একর। আর এই ঘোষণার পরেই আলিপুরদুয়ারে সঙ্কোষ চা-বাগানের প্রায় ১১৮.৪২ একর জমি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ SIB-র একটি ফ্রন্টিয়ার চেক-পোষ্ট ও ওসিআর কমপ্লেক্স স্থাপনের জন্য জলপাইগুড়ি জেলার চামুরচি চা বাগানের ০.৬৯ একর জমিও ফিরিয়ে নিচ্ছে রাজ্য। জানা গিয়েছে ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে এবং পরিবেশগত সমস্যার কারণেশীঘ্রই ‘চা পর্যটন ও আনুষাঙ্গিক ব্যবসা নীতি ২০১৯’-এর সংশোধন করা হবে।
আরও পড়ুন: বৈঠকের আগেই হঠাৎ ইস্তফা কাজল শেখের, জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে
ইতিমধ্যেই মালদহ জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে রাস্তা এবং সীমান্ত বেড়া দেওয়ার জন্য ১৩.৯১৪১ একর সরকারি জমি দেওয়া হল BSF-কে। এ ছাড়াও নিষিদ্ধ মাদকের প্রবেশ রুখতে ও নেশামুক্ত ভারত গড়ে তুলতে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তার তত্ত্বাবধানে অ্যান্টি নারকোটিক টাস্ক ফোর্স গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে। পাশপাশি পদক বিজয়ী ক্রীড়াবিদ পুজা দাস-কে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগ করা হবে। এবং বৈঠকে ‘পশ্চিমবঙ্গ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আইন ১৯৮৩’ অনুসারে ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএফ সংক্রান্ত বিষয়গুলো একত্র করার জন্য ‘দি ওয়েস্টবেঙ্গল ইউনিভার্সিটিস ল’জ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, পেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য।










