আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দুর্গাপুজোর (Durga Puja) আগে রেশন (Ration) গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধার ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গের সরকার (Government of West Bengal)। উৎসবের মরশুমে এবার রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে উপভোক্তাদের দেওয়া হবে চিনি ও ময়দা। খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া (Ashok Kirtania) জানিয়েছেন, শুধু দুর্গাপুজো নয়, কালীপুজো পর্যন্ত এই বিশেষ সুবিধা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন দেওয়া হচ্ছে চিনি ও ময়দা?
উৎসবের সময়ে বাড়িতে নানা ধরনের মিষ্টি ও জলখাবার তৈরির প্রবণতা বাড়ে। দুর্গাপুজোর পাশাপাশি নবরাত্রির সময়ও বিভিন্ন পরিবারে বিশেষ খাবার তৈরির চল রয়েছে। নাড়ু, নিমকি-সহ একাধিক ঘরোয়া খাবার তৈরিতে চিনি ও ময়দার প্রয়োজন হয়। এই অতিরিক্ত চাহিদার কথা মাথায় রেখেই উৎসবের সময়ে রেশন ব্যবস্থায় এই দুই সামগ্রী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খাদ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। এতদিন রেশন ব্যবস্থায় কার্ডের ধরন অনুযায়ী চাল, গম বা আটা পাওয়ার সুযোগ থাকলেও চিনি ও ময়দা এই বিশেষ প্যাকেজের অংশ হিসেবে আলাদাভাবে দেওয়ার ঘোষণা হয়েছে।
কোন রেশন কার্ডে কতটা চিনি-ময়দা?
এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চিনি ও ময়দা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা হলেও কোন ধরনের রেশন কার্ডে কত পরিমাণ সামগ্রী দেওয়া হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, খাদ্য দফতরের পরবর্তী বৈঠকে কার্ডের ধরন অনুযায়ী কোন কার্ডে কতটা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হবে। ফলে এখনই পরিমাণ নিয়ে নির্দিষ্টভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। বরাদ্দের পরিমাণ চূড়ান্ত হওয়ার পরই উপভোক্তারা নিজেদের রেশন কার্ডের ক্যাটাগরি অনুযায়ী ঠিক কতটা চিনি ও ময়দা পাবেন, তা স্পষ্ট হবে।
কোন রেশন কার্ডে কতটা চাল-গম বা আটা দেওয়া হয়?
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি রেশন ব্যবস্থায় কার্ডের ধরন অনুযায়ী খাদ্যশস্যের পরিমাণ আলাদা-
- অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা বা AAY কার্ডে প্রতি পরিবার মাসে ২১ কেজি চাল এবং ১৪ কেজি গম অথবা ১৩.৩ কেজি ফর্টিফায়েড আটা দেওয়া হয়।
- PHH ও SPHH কার্ডে মাথাপিছু ৩ কেজি চাল এবং ২ কেজি গম অথবা ১.৯ কেজি ফর্টিফায়েড আটা বরাদ্দ রয়েছে।
- অন্যদিকে RKSY-I কার্ডে মাথাপিছু ৫ কেজি চাল এবং RKSY-II কার্ডে মাথাপিছু ২ কেজি চাল দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি, ৬ অক্টোবর কমিশন অভিযানের ডাক ইন্ডি জোটের
এই নিয়মিত খাদ্যশস্যের বরাদ্দ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। এছাড়া AAY কার্ডে মাসে পরিবারপিছু ১ কেজি চিনি পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে, যার নির্ধারিত দাম কেজিপিছু ১৩.৫০ টাকা। তবে দুর্গাপুজো উপলক্ষে ২০২৬ সালের বিশেষ চিনি ও ময়দার অতিরিক্ত প্যাকেজের ক্ষেত্রে কোন কার্ডে কতটা পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য পাওয়া যাবে তা এখনও আলাদা করে চূড়ান্ত করা হয়নি।










