আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও সরকার পোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং কর্মচারীদের (Government Employees) বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) দেওয়ার বিষয়ে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট হল কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court)। বুধবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে ‘গ্রান্ট ইন এড’ কর্মীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। সেখানেই রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদেরও বকেয়া ডিএ দেওয়া হবে। তবে এই প্রক্রিয়া শেষ করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন বলে আদালতকে জানিয়েছে রাজ্য।
বকেয়া ডিএ নিয়ে কেন হলো এই মামলা
২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মেটানোর দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ প্রধান শিক্ষক সমিতি। সংগঠনের বক্তব্য, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও অন্যান্য কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের প্রাপ্য মহার্ঘ ভাতা পাননি। রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র কিছু অংশ মেটানো হলেও ‘গ্রান্ট ইন এড’ কর্মীদের ক্ষেত্রে সেই টাকা এখনও বাকি রয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।
শুনানিতে রাজ্য সরকারের তরফে বকেয়া ডিএ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানানো হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রাপ্য টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে একসঙ্গে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলে কিছুটা সময় চেয়েছে রাজ্য। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ নিয়ে অপেক্ষায় থাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মীদের ক্ষেত্রে এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, বকেয়া ডিএ নিয়ে পুরসভার কর্মীদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এই শুনানির পর আইনজীবী মহলের একাংশের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের মতে, ‘গ্রান্ট ইন এড’ কর্মীদের নিয়ে হওয়া এই মামলার পর পুরসভার কর্মীরাও এর আওতায় আসবেন কিনা, তা নিয়ে ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে এদিনের শুনানিতে রাজ্যের বক্তব্যের প্রধান লক্ষ্য ছিল সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বকেয়া ডিএ।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে লাগাতেই হবে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি? যা জানালেন দিলীপ ঘোষ
এই মামলা ২০১৭ সাল থেকে চলছে। প্রথমে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল বা SAT-এ মামলা চলার পর তা কলকাতা হাই কোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয়। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট অল ইন্ডিয়া কনজ়িউমার প্রাইস ইনডেক্স বা AICPI অনুযায়ী ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া নজরে রাখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি মনিটরিং কমিটিও গঠন করা হয়। এরপর কমিটির নির্দেশ মেনে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই মেটানো হয়েছে। কিন্তু ‘গ্রান্ট ইন এড’ কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।










