সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আগের সরকারের চালু করা একাধিক নিয়মে রদবদল শুরু করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সেই সূত্রে এবার বাড়ি ভাড়া ভাতার (House Rent Allowance) নিয়ম নিয়ে বড় রায় দিল হাইকোর্ট। এতদিন পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রী দুজনেই একসঙ্গে চাকরি করলে যে কোনও একজন বাড়ি ভাড়া ভাতা পেতেন। বহুদিন ধরেই চলছে এই নিয়ম। পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একজন সরকারি চাকরিজীবী এবং অন্যজন বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরত হলে যদি বেসরকারি খাতের স্বামী কিংবা স্ত্রী বাড়ি ভাড়া ভাতা পেতেন, তাহলে অন্যজনকে সরকারি বাড়ি ভাড়া ভাতা থেকে বঞ্চিত করত তৃণমূল সরকার। তবে এবার সেই নিয়মেই এল বদল।
বাড়ি ভাড়া ভাতার নিয়মে বড় বদল
আগের সরকারের যুক্তি ছিল, স্বামী-স্ত্রী যখন একসঙ্গে বসবাস করেন, তখন দুইজন সরকারি কর্মচারী হলে আলাদাভাবে বাড়ি ভাড়া ভাতা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনকি, স্বামী বা স্ত্রী বেসরকারি ক্ষেত্রে বাড়ি ভাড়া পেলে সরকারি কর্মীও ওই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি কর্মচারী বা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ বিক্ষোভ এবং আন্দোলন চালিয়েছেন। তবে আগের সরকারের আমলে সেই নিয়ম বদল করতে পারেননি কর্মীরা। এবার কলকাতা হাইকোর্টের তরফ থেকে খারিজ করে দেওয়া হল তৃণমূল সরকারের সেই সিদ্ধান্ত।
আসলে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতার এক কলেজ শিক্ষিকা বাড়ি ভাড়া ভাতা পাচ্ছিলেন না বলেই মামলা দায়ের করেন হাইকোর্টে। আদালত জানিয়েছিল, বেসরকারি ক্ষেত্র থেকে স্বামী কিংবা তাঁর স্ত্রী কোনও একজন বাড়ি ভাড়া ভাতা পেলে অন্য জনকে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যায় না। কারণ, বেসরকারি খাতের অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিভিন্ন দপ্তর বা কলেজ, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সরকারি কর্মীরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।
আরও পড়ুন: এবার অন্নপূর্ণা যোজনা বন্ধের দাবি মহিলাদের! হঠাৎ হল টা কী?
রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হতেই সেই মামলা আবারও ওঠে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে। সোমবার বিচারপতি ২০২১-র নির্দেশের কথা মনে করিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি অবশ্যই বাড়ি ভাড়া ভাতা পাবেন। এমনকি এতদিন পর্যন্ত বকেয়া এই ভাতা বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে সুদসহ মেটাতে হবে বলেই উচ্চ আদালতের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যেই এই রায় কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন ওই কলেজ শিক্ষিকার আইনজীবী। তবে এই রায়ের ফলে এবার আশার আলো দেখছেন সরকারি কর্মীরা।










