বদলে যাবে বাংলার চিত্র! এবার ঝাড়গ্রামে মিলল বিপুল ম্যাঙ্গানিজের ভাণ্ডার

Published:

Jhargram

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ইতিমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর থেকে শুরু হয়েছে খনিজ তেল উত্তোলন। তবে এই সাফল্যের পর পশ্চিমবঙ্গের খনিজ মানচিত্রে এবার উঠে এল ঝাড়গ্রামের (Jhargram) নাম। জেলাটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ম্যাঙ্গানিজের সম্ভাব্য মজুদের সন্ধান মিলেছে বলেই খবর। এমনকি এই অঞ্চলের শিমুলপাল, বেগুনডিহা সহ আশপাশের এলাকাগুলিকে সমীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। তবে কী পরিমাণ ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে বা আদৌ উত্তোলন সম্ভব হবে কিনা তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।

এবার ঝাড়গ্রামে ম্যাঙ্গানিজের সম্ভার

বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য জানিয়েছেন, এমওআইএল লিমিটেড এই অভিযানে অংশগ্রহণ করবে। এমনকি জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ব্যুরো অফ মাইনস এবং ডব্লিউবিএমডিটিসিএল এই সমীক্ষায় যোগদান করতে পারে। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, যৌথ এই দলটি ২০২৬-র ১৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এলাকাটিতে মাঠ পর্যায়ের কাজ চালাবে। এমনকি প্রাথমিক পর্যায়ে খনিজের সম্ভাব্য মূল্যায়ন করা হবে বলেই খবর। তবে যদি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ম্যাঙ্গানিজের মজুদ নিশ্চিত হয়, তাহলে ভারতের খনিজ শিল্পে ঝাড়গ্রাম এক নতুন সম্ভাবনাময় হিসেবেই ধরা দেবে।

প্রাথমিকভাবে ভূতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ, মাটি এবং শিলার নমুনা পরীক্ষা আর ম্যাঙ্গানিজের বিস্তৃতি এবং সম্ভাব্য মজুদ সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তবে অশোকনগরের তৈল ভাণ্ডারের পর জঙ্গলমহলের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এই ম্যাঙ্গানিজের ভাণ্ডার সামনে এলে রাজ্যের শিল্প এবং খনিজ অর্থনীতিতে যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য না মেলার পর নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: বদলে যাবে বাংলার চিত্র! এবার ঝাড়গ্রামে মিলল বিপুল ম্যাঙ্গানিজের ভাণ্ডার

এ বিষয়ে অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “অশোকনগরের তেলক্ষেত্রের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর পশ্চিমবঙ্গ তার মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা আরও এক সম্পদ উন্মোচনের পথে। তা হল ঝাড়গ্রাম জেলার ম্যাঙ্গানিজের বিশাল ভাণ্ডার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খনি এবং খনিজ সম্পদ অধিদপ্তর শিমুলপাল, লবনী, ভাণ্ডারচুয়া, চৌগা পাহাড়, বেগুনডিহা, বীরমণ্ডল, বাঁশপাহাড়ি ইত্যাদি ম্যাঙ্গানিজ সমৃদ্ধ এলাকায় যৌথ প্রাথমিক জরিপ চালানোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে।” এমনকি আগের সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি লিখেছেন, “মমতার সরকারের উদাসীনতা আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বছরের পর বছর ধরে এই প্রাকৃতিক সম্পদ অব্যবহৃত এবং অবহেলিত অবস্থায় পড়েছিল। আজ প্রকৃত উন্নয়নে প্রতিশ্রুতবদ্ধ বিজেপি সরকারের আমলে ঝাড়গ্রামের খনিজ সম্পদ অবশেষে স্বীকৃতি পেতে চলেছে।”