প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কালীপুজোর (Kali Puja 2026) আগেই দেখা গেল এক অলৌকিক কাণ্ড। রায়মঙ্গল নদীতে (Raimangal River) ভেসে এল স্বয়ং মা কালীর মূর্তি। মঙ্গলবার, নদীতে মাছ ধরার জাল ফেলতেই ভেসে উঠেছিল মা কালীর সেই অক্ষত মূর্তি (Kali Idol in Raimangal River)। পরে পরম শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে মূর্তিটি জল থেকে তুলে নৌকায় নিয়ে আসা হয় এবং স্থানীয় দুর্গা মায়ের মন্দিরে স্থাপন করা হয়। অন্যদিকে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই খোঁজ মেলে মূর্তিটির আসল পরিচয়ের।
মাছ ধরতে গিয়ে উদ্ধার হলো কালী মূর্তি
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার, সকালে সুন্দরবনের রায়মঙ্গল নদীতে মাধবকাটি গ্রামের মৎস্যজীবী বাবলু মণ্ডল মাছ ধরার জন্য জাল ফেলেছিলেন। আর তখনই দেখতে পান একটি ঘটের উপর স্থাপিত মা কালির মূর্তি। দেবীর মাথায় ছিল বিশাল স্বর্ণালি মুকুট, উজ্জ্বল চোখ। সেই রূপ দেখে রীতিমতো মুগ্ধ হয়ে যান সেই মৎস্যজীবী। সঙ্গে সঙ্গে সেই মূর্তিটিকে জল থেকে তুলে নৌকায় নিয়ে আসেন তিনি। এরপর তিনি মূর্তিটি উদ্ধার করে গ্রামের একটি মন্দিরে স্থাপন করেন। আর সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটল আরেক ঘটনা।
মূর্তি ফিরিয়ে দেওয়া হয় পুজো কমিটির হাতে
জানা গিয়েছে, মা কালীর মূর্তি উদ্ধারের খবর মাধবকাটি গ্রামের পার্শ্ববর্তী পুইজালি মন্দির কমিটির সদস্যদের কানে পৌঁছয়। তড়িঘড়ি তাঁরা সেই দৃশ্য দেখার জন্য ছুটে আসে মাধবকাটি গ্রামে। আর এসে তাঁরা দাবি করেন যে, মূর্তিটি নাকি তাদের মন্দিরের। কোনো কারণে হয়তো সেটি ভেসে রায়মঙ্গল নদীতে পড়ে গিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ আলোচনার পর মাধবকাটি গ্রামের বাসিন্দা ও প্রশাসনের সহযোগিতায় অক্ষত অবস্থায় মূর্তিটি পুইজালি গ্রামের মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এদিকে দীর্ঘ অপেক্ষার পর মায়ের বিগ্রহ হাতে পেয়ে আনন্দে আপ্লুত গ্রামবাসী ও পুজো কমিটির সদস্যরা। কাঁদতে কাঁদতে মাকে কোলে করেই গ্রামের মহিলারা নিয়ে চলে যান।
আরও পড়ুন: স্ত্রীয়ের কাটা মুণ্ডু হাতে নিয়ে মন্দিরে বসে স্বামী, ভয়ংকর ঘটনা গঙ্গারামপুরে
কালীপুজোর আগে মায়ের মূর্তি খুঁজে না পাওয়ায় এতদিন ধরে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল পুইজালি মন্দির কমিটি ও গ্রামবাসী। কিন্তু পরে মাকে খুঁজে পেয়ে তাঁদের চোখে মুখে সেই আনন্দ ভেসে উঠেছে। কমিটির সদস্য উত্তম পাত্র জানান, মায়ের মূর্তি অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে তাঁরা অত্যন্ত খুশি। মূর্তি উদ্ধারে সহযোগিতার জন্য মাধবকাটি গ্রামের বাসিন্দাদের পাশাপাশি প্রশাসনকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।










