IIT খড়্গপুরের গবেষণায় সুফল, ৪ বছরেই ৫০% কমতে পারে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা

Published:

IIT Kharagpur on Road Accident Deaths

অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতবর্ষে পথ দুর্ঘটনার (Road Accident) সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। সচেতন মহল থেকে সাধারণ মানুষ- সবাই এই বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রতিবছর আপনজনদের হারাচ্ছে প্রায় দু’লক্ষ পরিবার (Road Accident Death) । তবে এই উদ্বেগের মাঝখানেই এবার আশার আলো দেখাচ্ছেন আইআইটি খড়্গপুরের (IIT Kharagpur) একদল গবেষক। ২০৩০ সালের মধ্যেই পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা কীভাবে অর্ধেকে নামিয়ে আনা যায়, তাই নিয়ে চর্চা শুরু করেছেন তারা।

দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু কমাতে গবেষকদের পরামর্শ 

আইআইটি খড়্গপুরের ওই গবেষক দলের মতে, দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে গেলে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ করলেই চলবে না, সাথে বৈজ্ঞানিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে কার্যকর করে তুলতে হবে। গত বৃহস্পতিবার রোড সেফটি নেটওয়ার্ক (RSN)-এর উদ্যোগে নিউটনের একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন গবেষক, পুলিশ প্রশাসক, নীতি নির্ধারক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক মহলের প্রতিনিধিরা। তারা এই বৈঠকে পথ সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন নীতির ওপর জোর দিয়েছেন। 

রিপোর্ট অনুযায়ী, গবেষকরা দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের সারাদেশে পথদুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ১ লক্ষ ৮০ হাজার। এরমধ্যে ৬২ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী হল অতিরিক্ত গতি। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে দু’চাকা চালকদের পাশাপাশি প্রায় ৩৬,৫২৬ জন পথচারীদের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এর সবচেয়ে বড় দাওয়াই গতি নিয়ন্ত্রণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। আইআইটি খড়্গপুরের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ভাগর্ব মৈত্র বলেন, ষোল নম্বর জাতীয় সড়কে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বালিহাটি থেকে কোলাঘাট পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার রাস্তায় বৈজ্ঞানিকভাবে ডিজাইন করা চিকেন ব্যারিকেড ও অন্যান্য স্পিড ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থার সঠিক প্রয়োগের ফলে সুফল মিলেছে। 

আরও পড়ুনঃ দশম ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ফেল, প্রথমবারেই UPSC ক্র্যাক করে IAS হন অঞ্জু

পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, এই ব্যবস্থার ফলে সাধারণ গাড়ির গতি ৩৯ থেকে ৪৫ শতাংশ, ভারী যানবাহন গুলির গতি ২৯ থেকে ৩৩ শতাংশ এবং দু’চাকার গতি ১৮ থেকে ২৮ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এর ফলে পথ দুর্ঘটনা এবং দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই অত্যাধুনিক গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বাস্তবায়ন সর্বপ্রথম পশ্চিমবঙ্গেই করা হয়েছে। যদি এই মডেল সফল হয় তাহলে সারা ভারতে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এরাজ্য। পথ দুর্ঘটনায় কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর আইন প্রয়োগ, নিরাপদ সিটি করিডর, সিটবেল্টের ব্যবহার, পথচারীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক স্পিড ম্যানেজমেন্টের জন্য সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা।