আজীবন প্রথম শ্রেণীতে বিনামূল্যে ভ্রমণ! কালনার ‘জলকন্যা’ সায়নীকে রেলের বিশেষ উপহার

Published:

Indian Railways honors swimmer Sayani Das

অনন্যা সরকার, পূর্ব বর্ধমান: কালনার ওপেন ওয়াটার সুইমার (Open Water Swimmer) সায়নী দাসকে ভারতীয় রেলের (Indian Railways) পক্ষ থেকে সারাজীবনের জন্য প্রথম শ্রেণীর স্লিপার ক্লাসে বিনামূল্যে ভ্রমণের সুবিধা দিয়ে বিশেষ সম্মান দেওয়া হল। গত বছর জানুয়ারি মাসে কালনার সায়নী দাস অ্যাডভেঞ্চার বিভাগে সর্বোচ্চ পুরস্কার, তেনজিং নোরগে জাতীয় পুরস্কার জিতেছিলেন। রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার তুলে দেন সায়নীর হাতে। আর এখন রেলের তরফ থেকেও দেওয়া হল এই বিশেষ সুবিধা। 

সাঁতারু সায়নীকে রেলের বিশেষ উপহার

পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনার বারুইপাড়ার বাসিন্দা সায়নী দাস ইতিমধ্যেই সপ্তসিন্ধুর মধ্যে প্রথম মহিলা সাঁতারু হিসেবে এরইমধ্যে ষষ্ঠ সিন্ধু জয় করে ফেলেছেন। সায়ানীর বাবা ও কোচ রাধেশ্যাম দাস জানিয়েছেন যে, ৩০ আগস্ট থেকে সায়ানীকে ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকে আজীবন প্রথম শ্রেণীর স্লিপার ক্লাসে বিনামূল্যে ভ্রমণের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের কার্যালয় থেকেও এবিষয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। 

জানিয়ে রাখি, এশিয়ার প্রথম মহিলা সাঁতারু সায়নী দাস এবছর ৪ জুলাই দুপুর ১২:৪১ মিনিটে (ভারতীয় সময়) জাপানের সুগারু চ্যানেলে সপ্ত সিন্ধু জেতার চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়ে সাঁতার আরম্ভ করেন। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তাঁকে জাপানের কোডোমারির হনশু দ্বীপ থেকে হোক্কাইডোর ফুকুসীমা পর্যন্ত সাঁতার কাটতে হত। তবে ১৫ কিলোমিটার সাঁতার কাটার পর তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন। এই ব্যথার কারণে তাঁকে সাঁতার বন্ধ করতে হয়। সায়নী পরে জানান যে, সুগারুর জল খুব ঠান্ডা, সেখানে জেলিফিশ, টুনা মাছের পাশাপাশি প্রাণঘাতী হাঙ্গরও রয়েছে। আবার, মাঝেমাঝেই সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। তবে এইসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি সুগারু চ্যানেল জিতে তিনি সমগ্র ভারতবাসীর মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্টার্টিং পয়েন্ট থেকে ১৫ কিলোমিটার সাঁতার কাটার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন কোচের পরামর্শে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়। 

আরও পড়ুনঃ ডলারের বিপরীতে অনেকটাই শক্তিশালী হল ভারতীয় রুপি, জানুন রেট

তবে ইতিমধ্যেই ষষ্ঠ সিন্ধু জয় করে ফেলেছেন নৃবিজ্ঞানে (Anthropology) স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী সায়নী। তিনি ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সফলভাবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যবর্তী ইংলিশ চ্যানেল, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের মাঝে হিমশীতল নর্থ চ্যানেল, ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাটালিনা চ্যানেল, নিউজিল্যান্ডের তীব্র স্রোতের কুক প্রণালী, হাওয়াইয়ের মোলোকাই চ্যানেল, জাপানের অপ্রত্যাশিত ঢেউয়ের জন্য পরিচিত সুগারু স্ট্রেস্ট এবং স্পেন ও মরক্কোর মাঝে জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রম করেছেন। সাত সাগরের শেষ সাগর, সুগারু চ্যানেল সফলভাবে পার করলেই সপ্তসিন্ধু জয়ের স্বীকৃতি পেয়ে ভারত ও এশিয়ার প্রথম মহিলা সাঁতারু হিসেবে সায়নী দাসের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হবে।

google button