শিক্ষার নামে ডিগ্রি বিক্রি চলবে না, রাজ্যের কলেজগুলিকে কড়া বার্তা উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর

Published:

Jagannath Chattopadhyay

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরিকাঠামো ও পঠনপাঠনের গুণমান নিয়ে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। বিএড, আইটিআই, পলিটেকনিক এবং ডি ফার্ম কলেজগুলির পরিদর্শনের পর একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিষয়ে সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চ্যাটার্জি (Jagannath Chatterjee)। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষার গুণমানের সঙ্গে কোনওরকম আপস করা হবে না। শিক্ষাকে পণ্য হতে দেওয়া যাবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।

কী জানালেন জগন্নাথ চ্যাটার্জি?

জগন্নাথ চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ অনুযায়ী উচ্চশিক্ষা দপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে রাজ্যের বেসরকারি বিএড, আইটিআই, পলিটেকনিক এবং ফার্মা কলেজগুলিতে পরিদর্শন চালানো হয়। ৪ নভেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার পরিদর্শনের পর ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে ১৫৬টি বিএড কলেজকে ছাত্র ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় গুণমান ও পরিকাঠামোর শর্ত পূরণ করতে না পারায় ৪৫১টি কলেজকে ২১ দিনের মধ্যে শোকজ করা হয়। পাশাপাশি তাদের পরিকাঠামো এবং অন্যান্য ঘাটতি পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর শোকজের জবাবের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় পরিদর্শন করা হয়। প্রথম দফায় যাঁরা পরিদর্শন করেছিলেন, দ্বিতীয় দফায় তাঁদের কাউকেই একই কলেজে পাঠানো হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। শোকজ হওয়া ৪৫১টি কলেজের মধ্যে ৯টি আর নতুন করে আবেদন করেনি। বাকি ৪৪২টি কলেজের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরিদর্শনে ২৩৭টি কলেজ প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে ৪ নভেম্বর তাদের ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি ২০৫টি কলেজ এখনও নির্ধারিত মানে পৌঁছতে পারেনি। তাদের পরিকাঠামো, শিক্ষক এবং পঠনপাঠনের গুণমান উন্নত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উন্নতি হলে তবেই পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হবে।

শুধু বিএড কলেজ নয়, অন্যান্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রেও পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন বিজেপি নেতা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ২৬৫টি আইটিআইয়ের মধ্যে ১৪টিতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো না থাকায় ছাত্র ভর্তি বন্ধ করতে হয়েছে। ১৩৪টি ফার্মা কলেজের মধ্যে ৩৮টিতে চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ৭৪টি পলিটেকনিক কলেজের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে ছাত্র ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জগন্নাথ চ্যাটার্জি জানান, “শিক্ষার গুণমান রক্ষা করার জন্য এবং শিক্ষার নামে দোকান খুলে ডিগ্রি বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানগুলি যাতে না চলে, তার জন্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর এই ব্যবস্থা নিচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে আমরা কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি না। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের পরিকাঠামো এবং পঠনপাঠনের গুণমান বাড়ালে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে তাদের আবার অনুমোদন দেওয়া হবে। যাঁরা এই নিয়ে নানারকম বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তাঁদের জন্য এই বিষয়গুলি আমি সামনে রাখলাম।”

আরও পড়ুন: বীরভূম থেকে উদ্ধার ১১৫০ জিলেটিন স্টিক, ৯৮৯ ডিটোনেটর! বড় সাফল্য STF-র

এই পদক্ষেপকে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরতে চাননি জগন্নাথ চ্যাটার্জি। তাঁর বক্তব্য, সরকার কোনও কলেজ বন্ধ করতে চায় না। বরং প্রতিষ্ঠানগুলিকে পরিকাঠামো, শিক্ষক এবং পঠনপাঠনের মান উন্নত করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করতে পারলে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে ফের ভর্তির অনুমতি মিলবে। শিক্ষার গুণমান রক্ষা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে দাবি করে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর বার্তাও দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতে পারে, কিন্তু ডিগ্রি বিক্রির দোকান চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না।

google button