স্যাক্রিফাইস করতে হয়েছে অনেক কিছু! জয়েন্ট এন্ট্রান্সে রাজ্যে প্রথম কলকাতার শাশ্বত

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় (West Bengal Joint Entrance Examination)  শহর কলকাতার নাম উজ্জ্বল করলেন সল্টলেক সেক্টর 2 এর বাসিন্দা শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তিনি। সন্তানের দুর্ধর্ষ রেজাল্টে আনন্দের জোয়ার শাশ্বতর পরিবারে। জানা গিয়েছে, সাফল্যের জন্য নিজের পরিবারকে খুব একটা সময় দেওয়া হতো না এই কৃতি ছাত্রের! নিজের পড়াশোনার জন্য অনেক কিছুই সেক্রিফাইস করতে হয়েছে শাশ্বতকে! আর সেই কর্মের ফল একেবারে হাতে নাতে পেলেন বাঙালি পড়ুয়া।

মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় 96 শতাংশের বেশি নম্বর

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম স্থানাধিকারী কলকাতার শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায় রাজস্থানের কোটার অনন্তপুরে অবস্থিত নালন্দা অ্যাকাডেমির সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে পড়তেন। ছোটবেলা থেকেই অঙ্কের প্রতি একটা আলাদা ঝোঁক ছিল শাশ্বতর। জানলে অবাক হবেন, ICSE বোর্ডের দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় 97.6 শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন শাশ্বত। পরবর্তীতে CBSE বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় 96.2 শতাংশ নম্বর উঠেছিল শাশ্বতর ঝুলিতে।

অঙ্ক পাগল শাশ্বত ঠিক করেছিলেন ইঞ্জিনিয়ার হবেন। সেখান থেকেই এক এক করে ধাপ এগোতে থাকেন তিনি। সেই সূত্রেই রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বসা। আর তারপর গোটা বাংলার মধ্যে প্রথম হলেন সল্টলেকের বাসিন্দা। জানিয়ে রাখি, শাশ্বতর বাবা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় একজন অর্থোপেডিক সার্জেন। মা এমিলি বন্দ্যোপাধ্যায় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এক কথায়, বাংলার কৃতি ছাত্রের পরিবারে শিক্ষার পরম্পরা রয়েছে। তবে দুই দাদু ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার। এবার তাঁদের পেশাকেই নিজের পেশা বানাতে চলেছেন শাশ্বত। ভবিষ্যতে দেশের স্বনামধন্য কলেজে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর।

অবশ্যই পড়ুন: ইস্টবেঙ্গলের ঘুম কেড়ে নিতে পারেন মোহনবাগানের এই নতুন ফুটবলার, খেলেন জাতীয় দলে

প্রসঙ্গত, লেখাপড়ার পাশাপাশি ছোট থেকেই খেলাধুলোর সাথে অত্যন্ত পরিচিত শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবার সূত্রে খবর, ছোট থেকেই দাবার প্রতি আলাদা একটা ভালবাসা জন্মেছিল বাংলার কৃতি ছাত্রের। বিশেষ করে স্পিড চেস পছন্দ করতেন তিনি। এছাড়া ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিসের মতো খেলাতেও নিজেকে সমানভাবে মানিয়ে নিয়েছিলেন শাশ্বত। সাফল্যের জন্য বইয়ে মুখ গুঁজে পড়ে থাকার ছেলে নন শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, ঠিক যতটুকু সময় পড়ার দরকার ততটুকু সময়ই লেখাপড়ায় খরচ করতেন তিনি। অবসর সময়ে, রহস্যের গল্প পড়ার একটা অভ্যাস রয়েছে শাশ্বতর। তাঁর পছন্দের চরিত্র শার্লক হোমস, ফেলুদা এবং পোয়ারো।